বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবন। ছবি:সংগৃহীত

কে ভুলতে পারে আশি আর নব্বইয়ের দশকের ফুটবল উন্মাদনা! দেশ ভাগ হয়ে যেত আবাহনী-মোহামেডান দুই শিবিরে। সেই পর্ব আজ শুধুই স্মৃতিময়। ফুটবল আর বাংলাদেশের প্রধানতম খেলা হিসেবে নেই। অথচ ইংলিশ লিগ, স্প্যানিশ লি, চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে তরুণদের ভেতর আগ্রহের কমতি নেই। তবে কী ‌‌‌‌‌গেয়ো যোগী ভিক্ষ পায় না দেশে? অথচ এখনও কিন্তু মরেনি বাংলাদেশের ফুটবল। নতুন ক্লাব আর নতুন তারকারা মাঠ মাতাচ্ছেন নিয়মিতই।

আজকের পত্রিকা থাকতে চায় দেশিয় ফুটবলের সঙ্গে। সোনালী দিন ফিরে আসুক এই কামনা আমাদের। দেশিয় ফুটবল তারকাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজন ‘মাঠের তারা’। পড়ুন, লাইক দিন, শেয়ার করুন।

নাবিব নেওয়াজ জীবন। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের আক্রমণ ভাগের খেলোয়ার। ক্লাব পর্যায়ে খেলেন আবাহনী লিমিটেডের হয়ে। মুখোমুখি হয়েছিলেন আজকের পত্রিকার সাদী মোহাম্মদ শীতলের। সৃতিচারণ করেছেন একজন জীবন হয়ে ওঠা থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের ফুটবল ভাবনা।

ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছেটা জীবনের কোন পর্যায়ে এসে অনুভূত হয়?

ফুটবলের নেশাটা সেই ছোটবেলা থেকেই। বগুড়ায় শিবগঞ্জে আমাদের বাড়ির পাশে গাঙনগর স্কুলের সুন্দর মাঠটায় খেলতাম। মাঝে মাঝেই খেলার জার্সি, বুট এগুলো দেয়ালের ওপর দিয়ে ওপারে ফেলে পরে চুপি চুপি হাফপ্যান্ট পরে বাড়ি থেকে বের হতাম। বলতে পারেন, চুরি করেই খেলতাম।

পরিবার থেকে কেমন সমর্থন পেয়েছেন?

আমার বাবা-চাচারা ভালো মানের ফুটবলার ছিলেন। আমার দাদাও খুব ভালো ফুটবল খেলতেন। দাদা তো সেই সময় স্প্রিঙ্গলের হয়েও খেলেছেন। আমার চাচা শাহীনুল কবির শিমুল আশির দশকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্ট্রাইকার ছিলেন। কিন্তু ছোটবেলায় চাচা বলতেন, তুই মিডফিল্ডে খেল। আমি বলতাম, স্ট্রাইকার হিসেবে খেলব। কারণ গোল করার একটা আনন্দ আছে। যেটা আমি শুরু থেকেই পেয়ে আসছিলাম। আমার বাবা কাদের নেওয়াজ শাহীও ফুটবল খেলতেন,কিন্তু তিনি ঢাকায় আসতে চাইতেন না বলে আর পেশাদার ফুটবলার তার হয়ে ওঠা হয়নি। আমার বাবা ফুটবল খেললেও তিনি চাইতেন না আমিও ফুটবলে আসি। মা-ও তাই। তাঁরা চেয়েছেন পড়াশোনা করে আমি চাকরি করি।

লাল-সবুজের জার্সি গায়ে প্রথম মাঠে নামার অনুভূতি?

জাতীয় দলে প্রথম যেই সময় ডাক পাই,তখন আমি বাড়িতে ছিলাম। বিজেএমসির হয়ে খেলতাম তখন। হঠাৎ কল আসে মোবাইলে,তখন জানতে পারি জাতীয় দলে ডাক পেয়েছি আমি সাথে সাথে মা-বাবাকে জানাই তাঁরা অনেক খুশি হয়। আর লালা-সবুজের জার্সিতে মাঠে নামার অনুভূতি,তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।

দেশের হয়ে আপনার শেষ গোলটি ২০১৬ সালে সংযুক্ত আরব-আমিরাতের বিপক্ষে। মাঝের এই গোল খরা কি আপনাকে চাপে ফেলে দিচ্ছে?

সত্যি কথা বলতে কিছুটা চাপে তো অবশ্যই আছি। তবে এখন নিজের উপর চাপটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। সামনে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ম্যাচ আছে। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি। দেশের হয়ে প্রতিটি ম্যাচেই ভালো করতে চাই আমি।

আবাহনীর হয়ে দুর্দান্ত এক মৌসুম পার করছেন আপনি। কিন্তু জাতীয় দলে যেন কিছুটা অপরিচিত এই আবাহনীর জীবন। ব্যপারটি আপনি কিভাবে দেখছেন?

আমি নিজেও বুঝতে পারছি। দেখেন জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচে লাওসের বিপক্ষে আমি যেই হেডটি মিস করলাম,আমি কল্পনাও করিনি গোলটি মিস হবে আমার। তবে ইনশাল্লাহ আমি সরূপে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।ভালো কিছু করার চেষ্টা প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছি আমি।

এপ্রিল টুয়েনটি ফাইভের বিপক্ষে প্লে-অফ নিয়ে কতটুকু আশাবাদী?

আমাদের ঘরের মাঠেই প্রথম ম্যাচ। যদিও ফুটবলে উত্তর কোরিয়ানরা অনেক ভালো করে আসছে। তবে যদি আমরা সবাই মিলে ভালো খেলতে পারি অবশ্যই ভালো কিছু হবে।

এএফসি কাপ এবং পরেই জাতীয় দলের খেলা,বাড়তি কোন চাপ অনুভব করছেন?

একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে নিজের উপর বাড়তি চাপ দেখছি না। এএফসি কাপের পরেই জাতীয় দলের সব কিছু মাথায় রেখেই নিজেকে প্রস্তুত রাখছি।

সামনেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। গ্রুপ দেখে কি মনে হচ্ছে?

গ্রুপের সব দলই ভালো ফুটবল খেলেই আসছে অনেকদিন থেকে। কাতারতো এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন দল। কিছুদিন আগে কোপাতেও খেলেছে তাঁরা। তবে আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়েই চেষ্টা করব। ইচ্ছাতো সবারই থাকে প্রতিটা ম্যাচেই ভালো কিছু করার। দেশের ফুটবল প্রেমীদের নিরাশ করতে চাই না। নিজেদের হোম কন্ডিশনের ম্যাচগুলোতে ভালো কিছু করার আশা রাখি।

পছন্দের ফুটবলার?

দেশের বাইরে সব সময় ভালো লাগে লিওনেল মেসিকে। আর দেশের ভিতর ভালো লাগে জয় ভাইকে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেশা হিসেবে ফুটবলার কেমন?

পেশা হিসেবে ফুটবল ভালোই বলে আমি মনে করি। যদি ভালো মত খেলা যায় তাহলে পুরো বছর একটি ক্লাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকা যায়,সাথে নানা ধরণের সুযোগ সুবিধাতো আছেই।

ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন?

ঢাকার বাইরে ফুটবলকে ছড়িয়ে দিতে হবে আরও। বিজ্ঞাপন বাড়াতে হবে,আমাদের পাশের দেশ ভারত কিন্তু ফুটবলের বিজ্ঞাপনে প্রচুর কাজ করে যাচ্ছে। এটা অবশ্যই একটি ভালো দিক। এছাড়াও আমাদের জেলাভিত্তিক ফুটবলার বাছাইয়ে যদি আমরা আরও জোর দেই তাহলে অবশ্যই আরও ভালো কিছু হবে।

নিজ জন্মস্থান বগুড়া নিয়ে যদি কিছু বলতেন?

বগুড়া সেতো আমার প্রাণের জায়গা। অবসর পেলেই ছুটে যেতে ইচ্ছা করে বগুড়াতে। বগুড়ার মানুষ ফুটবল প্রচণ্ড ভালোবাসে। কিন্তু আমাদের শহরে,আলফাতুনেছা মাঠ ছাড়া আর তেমন কোন ফুটবলের জন্য ভালো মাঠ নেই। যদি আরও ভালো মাঠ হয় তাহলে আরও অনেক খেলোয়াড় বের হয়ে আসবে বগুড়া থেকে।

আজকের পত্রিকা/এসএমএস