বাংলাদেশের দৃশ্য দ্রুত পাল্টাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষা, নারীর চলাচলা, চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং পরিবহন প্রভৃতি ক্ষেত্রে এ পরিবর্তন দৃশ্যমান। বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ দ্রুত বাড়ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১৫০ টির মতো বিশ্ববিদ্যালয় আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ৫০টির উপরে। বাকিগুলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। দুটি আছে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বালকদের চেয়ে বালিকাদের সংখ্যা কম নয়। আরও বিশ্ববিদ্যালয়ে বালকদের সংখ্যা ও বালিকাদের সংখ্যা প্রায় সমান। এছাড়া বিদ্যালয় ও কলেজেও নারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। দল বেঁধে এদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া আসা খুব ইতিবাচক দৃশ্য।

এছাড়া পোশাক শ্রমিকদের বেলায় একই কথা। তারা সংখ্যায় বেড়েছে। এভাবে সমাজের সব ক্ষেত্রেই নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। এটা আমার কাছে বাংলাদেশে সমাজের পালা-বদল বলেই মনে হয়।

দেশের আরেকটি পরিবর্তিত ক্ষেত্র হচ্ছে সড়ক ব্যবস্থা ও পরিবহন খাত। দেশের গ্রাম পর্যায়ে এখন রাস্তা অনেক ভালো। গ্রাম থেকে ট্রাক ভর্তি উৎপাদিত পণ্য শহরে আসে। এটা দিন দিনই বাড়ছে।

গ্রাম অঞ্চলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। প্রায় সব বাড়িতেই টিভি, ফ্রিজ, রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাস এসব আছে। এ এক বিরাট পরিবর্তন।

গ্রামের নারীরা কাজ শেষে সবাই একত্রিত হয়। এক সঙ্গে টিভি দেখে। দেশ ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে কথা বলে। এসব আলোচনায় সরকারের ব্যর্থতা উঠে আসে। এটাকে পালা-বদলই বলা যায়। মানুষ আর বোকা নেই। সকলেই সচেতন হয়ে উঠছে। এজন্য বাল্য বিবাহ প্রায় বন্ধ হয়েছে। এ বদল দ্রুত ঘটছে। আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিবর্তন ঘটবে। তার আলামত এখনই চোখে পড়ছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পণ্য বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। গ্রামবাসীকে এখন আর শহরে আসতে হয় না। চিকিৎসার জন্য আগে তারা শহরে আসত। এখন গ্রামেই চিকিৎসার নানা সুযোগ আছে। তবে এক্ষেত্রে আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। গ্রামে গ্রামে ভালো চিকিৎসা কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে হবে। এটা হলেই আমাদের সমস্যা মিটে যাবে।

চিকিৎসকদের গ্রামে থাকা নিয়ে অনীহা কাজ করে। এটা সরকারকে বাধ্য করতে হবে। দেশের এই পালা-বদলে সবাই একত্রে থাকতে হবে। সরকারকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

লেখক : মো. এমদাদুল হক, সাবেক প্রধান শিক্ষক, ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর ২, ঢাকা ১২১৬