দেশের কৃষিকে বাঁচাতে প্রয়োজন জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তি

বর্তমানে বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন একটি গুরত্বপূর্ণ বিষয়। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে বিশ্বের কৃষি ব্যবস্থায়। আর হুমকিতেও বাংলাদেশের নাম অনেকটাই উপরে। তাই জলবায়ু পরিবর্তন ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের কৃষিকে ধ্বংসের মুখে ফেলবে।

শনিবার সকাল ১০ টার দিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সাস্টেইনেবল এগ্রিকালচার শীর্ষক আন্তর্জাতিক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন এসিআই এগ্রিবিজনেস এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও ড. এফ এইচ আনসারী।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণে সমুদ্রের পানি উচ্চতা বেড়েই চলেছে, এতে উজানের নদীর পানিতে বাড়ছে লবণাক্ততা, যা ফসলি জমিতেও ছড়িয়ে পরছে। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা, কমছে বৃষ্টির পরিমাণ। তাই দেশের কৃষিকে বাঁচাতে হলে জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তির’ বিকল্প নেই। উন্নত কৃষি গবেষণার মাধ্যমে জলবায়ু সহিষ্ণু বিভিন্ন শষ্যের জাত উদ্ভাবন এবং তা মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেশের কৃষিকে বাঁচানো সম্ভব।

বাকৃবি ও ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সাবাহ এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই কনফারেন্সে দেশী ও বিদেশী গবেষকদের মোট ১৭৭ টি প্রবন্ধ, ১০টি সেশন ও পোস্টার সেশন উপস্থাপিত হবে।

বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের পরিচালক ড এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য সিনিয়র সচিব অধ্যাপক ড. শামসুল আলম। কনফারেন্সের প্রধান পৃষ্টপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান ।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক এবং অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসাইন ও এফএও প্রতিনিধি ড. নূর আহমেদ খন্দকার।

প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, আমি মনে করি কৃষিবিদদের সেবা ও অবদান দেশের ডাক্তারের চেয়েও অনেক বেশি। তারা দেশের ১৬ কোটি মানুষের মুখে অন্নের নিশ্চয়তা দিয়ে যাচ্ছে সব সময়। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারী সকল কৃষি গবেষকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তানিউল করিম জীম/বাকৃবি