প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিআইডি

বিএনপি জামায়াত সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল, আওয়ামী লীগ সরকার তা নির্মূলের জন্য কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকারাজশাহীঢাকা রুটে বিরতিহীন বনলতা এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

ধর্মের নামে মানুষ হত্যা নয়, যারা বিপথে গেছেন তাদের ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগ বাংলা ভাইসহ জঙ্গিবাদের আখড়া হয়ে উঠেছিল। সবচেয়ে দুর্ভাগ্য বিএনপি জামায়াত সরকার এদের মদদ দিত। ইসলাম ধর্ম নিয়ে যারা জঙ্গিবাদ চালায় তারা এই পবিত্র ধর্মকে কলুষিত করছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ মানবতার বিরুদ্ধে। এদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। মানুষ কোনও অপরাধ করলে, তার বিচার করবে আল্লাহ নিজে। তাহলে ধর্ম রক্ষার নাম করে তারা কীভাবে মানুষ খুন করে। আমি আশা করি, ইমামরা মসজিদে খুতবার আগে এ ব্যাপারে আলোচনা করবেন। ইসলাম যে শান্তির ধর্ম সে বিষয়ে কথা বলবেন। এখানে সন্ত্রাসবাদের কোনও স্থান নেই।’ 

দেশবাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসের কারণে আমরা আট বছরের শিশু জায়ান চৌধুরীকে হারিয়েছি। আমার পরিবারের সবাইকে ১৫ আগস্টে হারিয়েছি। আমি চাই না, আর কোনও সন্তানের এভাবে মৃত্যু হোক। যারা এগুলো করে তারা ঘৃণা ছাড়া কিছুই পায় না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দেশবাসীকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা শান্তি চাই। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের উত্থান ঘটে। শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাইদের মতো সন্ত্রাসীদের জন্ম হয়। হরতালের নামে তারা মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। গাড়ি, বাস, ট্রাক ও লঞ্চ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। বাবা দেখেছে চোখের সামনে ছেলে পুড়ে যাচ্ছে, মা দেখেছে সন্তান পুড়ে যাচ্ছে, ভাই দেখেছে বোন পুড়ে যাচ্ছে। আমরা এগুলো চাই না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর তারা ইতিহাস বিকৃত করে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন তা রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। ২১ বছর পর আমরা ক্ষমতায় আসি। আমাদের লক্ষ্য ছিল জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। কিন্তু ক্ষমতায় এসে দেখলাম, সবকিছুর অচল অবস্থা। ক্ষমতাসীনদের ছাড়া সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা চেষ্টা করেছি, স্থবির অবস্থার একটা পরিবর্তন ঘটানোর। কিন্তু ২০০১ সালে তারা ক্ষমতায় এলে দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এটি এখন বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সন্ত্রাসের কারণে শ্রীলঙ্কায় শিশু জায়ান ও নিউজিল্যান্ডে অনেক মুসলমান প্রাণ হারিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শিক্ষক, ছাত্র, যুব-তরুণ ও মসজিদের ইমামসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন এবং জঙ্গিরা যে ইসলাম ও মানুষের শত্রু, সে বিষয়ে অন্যকে সচেতন করতে বলেছেন। শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় আগামী শুক্রবার মসজিদে দোয়া করার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বব্যাপী একটা সমস্যা। কয়েকদিন আগে, ২১ তারিখে শ্রীলঙ্কায় যে ঘটনা ঘটলো- সবচেয়ে দুর্ভাগ্য অনেকগুলো শিশু সেখানে মারা যায়। সেখানে আমাদের বাংলাদেশের শিশু জায়ানকে হারাতে হয়েছে এই জঙ্গি-সন্ত্রাসের কারণে। 

সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেল লাইনকে আমি সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলাদা মন্ত্রণালয় করে দিয়েছি। সড়কে সঙ্গে রেল যখন ছিল তখন আমি দেখেছি বাজেটের সময় রেলের ভাগে খুব কম পড়ত। সেই জন্যে আলাদা বাজেটসহ সবকিছু করে দিয়েছি।

আজকের পত্রিকা/আ.স্ব/