দেবপাড়া ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকা বিজয়ী

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া জাল ভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাই, এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

(১৪ অক্টোবর) সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও দেবপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মুহিত চৌধুরী (নৌকা) প্রতীকে ৪১৩২ ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকট তম প্রতিদ্বন্দ্বী সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাসুম আহমেদ জাবেদ এর পুত্র শাহ রিয়াজ নাদির সুমন(চশমা) পেয়েছেন ৩৩৮২ ভোট । ২৮০১ ভোট পেয়ে ৩য় হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আ.ক.ম ফখরুল ইসলাম কালাম (আনারস)।

অন্যান্য প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল আহমদ(ঘোড়া) প্রাপ্ত ভোট ৬৮১, মাওলানা ফখরুল ইসলাম চৌধুরী (মোটর-সাইকেল) প্রাপ্ত ভোট ৪২১।

এদিকে নির্বাচনী ফলাফলকে ব্যালট পেপার ছিনতাই, টেবিল কাস্ট ও বিভিন্ন কারচুপি, এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন নিকটতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাহ রিয়াজ নাদির সুমন ও আ.ক.ম ফখরুল ইসলাম কালাম এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এডভোকেট জালাল আহমদ একই অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখান করেছেন।

এদিকে বিকেল ৪টার দিকে দেবপাড়া (বাজার) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে যুবলীগ-ছাত্রলীগের একদল কর্মী ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল দেয়ার সময় চশমা প্রতীকের এজেন্ট হাসিনা পারভিন ৩৩টি ব্যালট পেপারসহ একটি মুড়ি বই আটক করে।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপ্সথিত হলে যুবলীগ- ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভূদৌড় দিয়ে পালিয়ে যায়। নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের এএসপি পারভেজ আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এর আগে দুপুর ১২টায় উত্তর দেবপাড়া হাজী মনির আহমেদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চশমা প্রতীকের এজেন্ট ফখরুল ইসলামকে একটি কক্ষে আটক করে প্রিজাটিং অফিসার আব্দুস সালামের সহযোগীতায় ব্যালটে সিল দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়াও আইনগাও দাখিল মাদ্রাসা ও ফরিদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

এর আগে সোমবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় ভোট গ্রহণ, বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সকাল থেকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দেবপাড়া ইউনিয়নের মোট ভোটার ১৮৩০৫ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৯টি।

গত ২০১৬ সালের ২৮শে মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রয়াত এডভোকেট মাসুম আহমেদ জাবেদ আলীর মৃত্যুতে চলতি বছরের ১৭ জুলাই ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষনা করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়।