দুলারহাট খাল দখলের মহোৎসব

চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার একমাত্র খালটি মেতে উঠেছে দখলের মহোৎসবে। যে সরকারই ক্ষমতায় আসে নজর পড়ে যায় ঐতিহ্যবাহী ভূতার খালটির উপর।

ব্যবসা-বাণিজ্যিক বয়ে যাওয়া এই বিশাল বড় খালটির করুন দশা। এক সময় ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক আমদানি রপ্তানির নির্ভরযোগ্য ছিল দুলারহাট। এই খালটির উভয় পাশে অবৈধ ভাবে দখলের দৌরাত্বের কারণে খাল যেন ড্রেনে পরিণত হতে শুরু করেছে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই শত বছরের পুরনো খালের দুই পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করে রেখেছে প্রভাবশালী মহল। দু’পাড় ভরাট করে যেভাবে বসত ঘর, দোকান পাট ও পাকা ভবন ইমারত নির্মাণ করে দখলের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে তারা। কৃষি প্রধান এ অ লে নুরাবাদ, নীলকমল, ওসমানগঞ্জ এবং দুলারহাট থানার একমাত্র ভরসা খালটি।

দুলারহাট বড় খালটি ঘোষের হাট তেঁতুলিয়া নদী হয়ে নীলকমল, নুরাবাদ, দক্ষিণ শিবা সংলগ্ন মায়ানদীর সাথে শাখা উপশাখা নিয়ে গড়ে উঠছে।

এখানে অতিবৃষ্টি, বন্যা, খড়া হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য এ খালটির উপর নির্ভর করতে হয়। খালের ওপর দিয়ে একসময়ে বয়ে যেতো মালবাহী পালতোলা নৌকা, ট্রলার, স্টিমার। যে নৌ-যানগুলো সোনার চর, ঢালচর, লক্ষ্মীচর, পাতিলাচর, পাঙ্গাসিয়া, কোড়ালিয়া, কুকরী মুকরী, রাঙ্গাবালি, চরমমতাজ, চরমোহর, চরকাজল, চরবিশ্বাস ইত্যাদি হইতে শুটকী, ধান, চাউল, গম, নারিকেল, সুপারি, কাচা তরকারী আমদানি, রপ্তানি করা হতো।

দুলারহাট বাজারের বিশিষ্ট্ ব্যবসায়ী আলহাজ্ব হানিফ কন্টেকদার, ও মফিজ মিয়ার সাথে আলাপ কালে তারা প্রত্যেক বছরে কৃষি, মৎস্য, ব্যবসায়ীদের প্রায় ৫শ কোটি টাকার অপুরণীয় ক্ষতি দাবি করেছেন। পাশাপাশি পানিতে জোয়ার ভাটা না থাকার কারণে মাছ চাষীদের, কৃষকের কৃষি থেকে সেচের বাধার সম্মুখিন হতে হয় মৌসুমে ভিত্তিক।

তারা আরো বলেন, প্রত্যক বর্ষা মৌসুমে এ খালে মাছ ধরার মহোৎসব ছিল চোখে পড়ার মতে। জেলেদের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এ খালের শাখা, উপ-শাখা। বড় খালটির সাথে মিশে ছিলো উপ-শাখা গুলো কিন্তু ভূমি দস্যুদের দ্বারা এখন নিমজ্জিত হয়ে বড় এ খালটি ড্রেনে পরিণত হয়েছে।

এখন বন্যা, খড়া, অতিবৃষ্টির ফলে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই তরমুজ, আলু, বাদাম, মরিচ, ডাল চাষিদের যে ক্ষতি তা মেনে নিতে না পেরে নিজের জীবন বলি দিতে হলো ৭নং চরযমুনা ওয়ার্ডের জহরলাল এর মতো হত দরিদ্র কৃষকের। নুরাবাদে হত দরিদ্রতার দাবানলে নিজের জীবন বলি দিতে চেয়েছিল অনেক কৃষক।

পরিবেশ বাদীরা মনে করেন, এ খালটি দখলমুক্ত করা না হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্য পরিবেশ হুমকির মুখে দাঁড়াবে। এমতাবস্তায় নুরাবাদ, নীলকমল, আবুবক্করপুর, ও অবদুল্লাপুর ওসমানঞ্জের, শ্রমিক, মৎস্যজীবীসহ এলাকাবাসীর দাবি দুলারহাটের খালের রক্ষা করে অবৈধ দখলদার থেকে উৎখাত করা এবং ঘোষের হাট -বাংলাবাজার স্লুলিজকে উন্মুক্ত করে পূর্বে খালের রূপান্তরের জন্য দাবি করেন।

এই বিষয়ে দুলারহাট সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এই অফিস থেকে দখলদারদের নামের তালিকা করে চরফ্যাশন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা আমার জানা নেই।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা আশিষ কুমার বলেন, আমরা অবৈধ দখলদারদের কে নাটিশ করব। খুব শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এম আমির হোসেন/চরফ্যাশন