গ্রেফতারকৃত স্বামী বেলাল মিয়া। ছবি: পিবিআই

পোশাকশ্রমিক সম্পা বেগমকে (২৩) হত্যার চার মাস পর এর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আত্মহত্যা বলে প্রচার করলেও পিবিআই নিশ্চিত হয়েছে আশুলিয়ায় নিজ বাসায় সম্পাকে হত্যা করেছে তার স্বামী বেলাল মিয়া (২৬)। যা ১২ জুন বুধবার আদালতেও স্বীকার করেন গ্রেফতারকৃত স্বামী।

১১ জুন মঙ্গলবার ভোরে গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুরের মনোহরপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত বেলাল একই এলাকার হারুন অর রশীদের ছেলে। পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে বেলাল জানিয়েছে, সম্পার বড়বোনের স্বামী (দুলাভাই) তাদের বাসায় আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে সে স্ত্রীকে হত্যা করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলায় কর্মরত সালেহ ইমরান বলেন, এটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়, সম্পাকে তার স্বামীই খুন করেন। এর নেপথ্যে রয়েছে পরকীয়া। যা আদালতেই স্বীকার করেছেন স্বামী বেলাল মিয়া।

জানা যায়, সম্পা ছিল আসামি বেলালের খালাতো বোন। পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয়। ঢাকার আশুলিয়ার ওই বাসায় তারা দেড় বছর ধরে থাকতো। সম্পা একটি পোশাক কারখানায় এবং বেলাল মিয়া একটি ব্যাগ তৈরির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। তাদের ৫ বছর বয়সী মেয়ে তামান্না গ্রামের বাড়ি থাকতো।

বিয়ের পর থেকে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলে আসছিল। এর জের ধরে মামলার ঘটনার তারিখ ১৬ই ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৩ টায় থেকে সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭ টার মধ্যে ভিকটিমের স্বামী তার স্ত্রীকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে নিহতের চাচা এজাহারে উল্লেখ করেন।

মামলাটির তদন্তকারী অফিসার পিবিআই ঢাকা জেলার সাব ইন্সপেক্টর সালেহ ইমরান জানান, নিহতের স্বামী শুরু থেকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। এমনকি ঢাকা থেকে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়ি নিয়ে গিয়ে সাথে থেকে লাশ দাফনও করে বেলাল। ঘটনার একদিন পর ১৭ ফেব্রুয়ারি নিহতের চাচা শহীদুল মণ্ডল নিহতের স্বামী বেলাল মিয়াকে আসামি করে মামলা করলে আত্মগোপনে চলে যায় বেলাল মিয়া।

মামলাটি প্রথমে আশুলিয়া থানা পুলিশ তদন্ত করলেও ১২ মার্চ মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই ঢাকা জেলার সাব ইন্সপেক্টর সালেহ ইমরান। তদন্তভার পেয়ে ৩ মাস পর গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর থানার মনোহরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১১ মার্চ বেলাল মিয়াকে গ্রেফতার করেন তিনি।

এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে বেলাল জানিয়েছে, সম্পার বড়বোনের স্বামী মেরাজের সাথে সম্পার অবৈধ সম্পর্ক আছে এমন সন্দেহ থেকেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য হতো। ঘটনার দিন মিরাজ তাদের বাসায় আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সে স্ত্রীকে হত্যা করে বলে স্বীকার করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সালেহ ইমরান জানান, ঘটনার পর বেলাল তার আত্মীয় স্বজনকে ফোন দিয়ে জানায়, বিকেলে কথা কাটাকাটির পর এক পর্যায়ে তার অনুপস্থিতিতে সম্পা গলায় ফাঁস দিয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনায় নিহত সম্পার বাবা হত্যা মামলাটি আর চালাতে রাজি নন। তাদের কথা, বেলালের সঙ্গে সম্পার পরিবারের মীমাংসা হয়েছে। ছোট্ট তামান্নার নামে ১০ শতাংশ জমি লিখে দেওয়া হয়েছে।

এসআই সালেহ ইমরান বলেন, ঘটনার পর থেকেই এটিতে আত্মহত্যা বলে আসছে বেলাল। সম্পার পরিবারও এখন আত্মহত্যা বলে বিশ্বাস করছে। তবে আসামি গ্রেফতারের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছে। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

আজকের পত্রিকা/কেএফ