অর্থের প্রতি মানুষের লোভ সহজাত। এটা সেই প্রথম থেকেই মানুষের মধ্যে আছে। ইদানিং যেন এ লোভ বেড়ে গেছে। যে যেখানে আছে সেখানেই কাজটা করছে। বিশেষ করে একটা দল যখন বছরের পর ক্ষমতায় থাকে তখন সে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে এ প্রবণতা বেড়ে যায়। তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে ক্ষমতাসীন দলের লোকরাই থাকে। তারাই এ সুযোগে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি শুরু করে।

বর্তমান সরকারের দুর্নীতি বিরোধি অভিযান খুব জোরেসোরে চলছে। অভিযানের ফলে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বস্থানীয় লোকরা অভিযুক্ত হচ্ছেন এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হচ্ছেন। এ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে। কিন্তু মূল কাজটি তারা ঠিকই করে যাচ্ছেন। সরকারকে এখানে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যে সব পদে নেতারা আছেন, তাদের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। দুর্নীতি করার সব ফাঁক ফোকড় বন্ধ করে দিতে হবে। এটা করতে হলে সরকারে অত্যন্ত কঠোর হতে হবে। এখানে কোনো প্রকার ছাড় দিলে হবে না।

জনগণ একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ দেখতে চায়। যেখানে কোনো দুর্নীতি হবে না। ভূমি রেজিস্ট্রেশন, বিভিন্ন পরীক্ষার ফরম পূরণ, ভূমি জরিপ প্রভৃতি ক্ষেত্রে জনগণ সরাসরি জড়িত। ফলে এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি না থাকলে জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে। এছাড়া পাসপোর্ট অফিসেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরকে অত্যন্ত সৎ ও নীতিবান থাকতে হবে। কারণ এই থানাতেও সাধারণ মানুষ নানাভাবে নির্যাতিত হয়। আরও রয়েছে হাসপাতাল। সাধারণ জনগণের চিকিৎসার সহজ স্থান হচ্ছে সরকারি হাসপাতাল। এই হাসপাতালগুলো অনেক সময় গরিব জনগণের জন্য বিপদজনক হয়ে দাঁড়ায়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পরীক্ষার সময় দুর্নীতির খবর পাওয়া যায়। জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি এসব পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিশেষ করে গ্রামে গরিব জনগণকে এসময় ধনীদের দারস্থ হতে দেখা যায়। নির্ধারিত ফি সংগ্রহ করতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা পর্যন্ত দিতে পারে না। আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা এমন যে, তারাও এক্ষেত্রে কিছু করতে পারে না। এ বিষয়গুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে আসুক। সেই সঙ্গে কামনা করছি, দুর্নীতি বিরোধি অভিযান সফল হোক।

লেখক : মো. এমদাদুল হক, সাবেক প্রধান শিক্ষক, ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর ২, ঢাকা