সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাগতিয়ার হজরত গাউছুল আজম (রা.)’র সালানা ওরছে পাক উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ঈছালে ছাওয়াব মাহফিলে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রবাসী বাংলাদেশিসহ ভারত, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, স্থানীয় আরবি ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে দুবাই আল-কুজ এলাকার চারপাশ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। মাহফিলস্থলে কোথাও তিল পরিমাণ ঠাঁই ছিলো না। মাহফিল রূপ নেয় মুসল্লিদের জনস্রোতে।

কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মহান মোর্শেদ, আওলাদে রাসূল হজরতুলহাজ্ব শাহছুফি অধ্যক্ষ আল্লামা ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ আহমদী বলেছেন, বর্তমানে এমন এক কঠিন সময়ে আমরা উপনীত হয়েছি যে, এ যুগে ঈমান ধরে রাখা হাতের মুঠোয় জ্বলন্ত আগুন রাখার সমান। এমন সময়ে নূরে মোহাম্মদীর আলোকধারায়  দিশেহারা মানবজাতির হেদায়তের পথে আরাধ্য পাঞ্জেরী রূপে আবির্ভূত হন হজরত গাউছুল আজম। উনি বলেন, আঁধারে পর্যবসিত মানবজাতির উত্তরণের জন্য নূরে মোহাম্মদীর বিকল্প নাই। প্রিয় রাসুল যে নূর, তার বাস্তবতা রয়েছে হজরত গাউছুল আজমের তরিক্বতে।

প্রিয় নবীর নূর হজরত গাউছুল আজম তাওয়াজ্জুহর মাধ্যমে মানুষকে দান করে যাচ্ছেন। এ নূর ক্বলবে নিলে ক্বলব আল্লাহর স্মরণে মশগুল হয়। দুনিয়ার প্রতি মোহ কমে, আখেরাতের দিকে ঝুঁকে এবং সদা-সর্বদা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকে। ফলশ্রুতিতে পাপে আসক্ত মানব হয় খোদাভীরু। গাউছুল আজমের এই কালজয়ী দর্শনে সারা পৃথিবীর মানুষ জাগ্রত হলে পৃথিবীটা হবে শান্তির আরাধ্য নিকেতন। আর এ বার্তা পৌঁছানোর জন্যই আরবভূমিতে এই এশায়াত মাহফিল।

১২ এপ্রিল শুক্রবার তিনি সালানা ওরছে হজরত গাউছুল আজম (রা.) এবং ফাতেমায়ে ছানি, জামানার রাবেয়া বসরী রূহানী আম্মাজান (রাহঃ) এর ওফাত শরীফ উপলক্ষে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি সংযুক্ত আরব আমিরাত এর উদ্যোগে দুবাইস্থ আল মারাবিয়া স্ট্রিট, ডাসকু ক্লাবে আয়োজিত বিশাল এশায়াত মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপস্থিত মুসলিম জনতার উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, হজরত গাউছুল আজমের সারা জীবনের ফরিয়াদ ছিল ‘আল্লাহ আমার তরিক্বতকে আরব থেকে আজমে, ইনসান থেকে জ্বীনের মধ্যে পৌঁছে দাও’। হজরত গাউছুল আজমের দোয়া আজ বাস্তব। গাউছুল আজমের তরিক্বত পৌঁছে গেছে আরব থেকে আজমে, প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্যের সর্বত্র। গাউছুল আজমের এখলাসের মর্তবা এতই উচ্চ পর্যায়ের ছিল যে প্রিয় রাসুল উনাকে জাগ্রত অবস্থায় স্বশরীরে উঠে এসে বায়াত করিয়ে খেলাফতে রাসুল প্রদান করেছেন। হজরত গাউছুল আজমের এই কীর্তি নবী প্রেমের ইতিহাসে বিরল। যে তরিক্বতের যাত্রা শুরু করেছিলেন কাগতিয়ার নিভৃত কুটির হতে, সে তরিক্বত আজ মহীরূহে রূপান্তরিত। মুসলমানদের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে হজরত গাউছুল আজমের অবদান অনস্বীকার্য। উনার সংস্পর্শে একজন মানুষ হয়ে উঠে আশেকে রাসুল।

প্রবাসীদের অনুরোধে কষ্ট করে বাংলাদেশ থেকে আরব আমিরাতে এসে বিশ্ব মুসলিমকে ধন্য করায় প্রধান অতিথির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বক্তারা। সুদূর জজিরাতুল আরবে এসে প্রধান অতিথি হুজুর কেবলা মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ছাহেব প্রিয় নবীর নূর সম্পর্কে যেভাবে বিশদ আলোচনার মাধ্যমে প্রিয় নবীজিকে নূরের নবী হিসেবে আখ্যায়িত করলেন তা বর্তমান মুসলিম বিশ্বে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন  উপস্থিত বিভিন্ন দেশের মুসলমানেরা।

কমিটির সাংগঠনিক তদারক পরিষদের আহ্বায়ক আলহাজ নূর মুহাম্মদ সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এশায়াত মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সংযুক্ত আরব আমিরাত ওলামা পরিষদের আহবায়ক আলহাজ মাওলানা শফিউল আলম, মাওলানা মাহাবুবুল আলম বোগদাদীসহ আরো অনেকে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতির উপদেষ্টা অধ্যাপক আবদুর সবুর, মহিউদ্দিন মহিন। শারজাহ প্রবাসী ব্যবসায়ী ফোরাম ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা প্রবাসী আওয়ামী লীগের সভাপতি লায়ন মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ইউ.এ.ই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন ইকবাল। দুবাই রাউজান সমিতি ও দুবাই বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কাসেম, আজমান রাউজান সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ জাহাঙ্গির আলমসহ আমিরাতের বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

মাহফিল শেষে প্রধান অতিথি দেশ, জাতি, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও উপস্থিত সকলের ইহকালীন কল্যাণ, পরকালীন মুক্তি এবং কাগতিয়ার গাউছুল আজম (রা.)‘র ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন।

আজকের পত্রিকা/আ.স্ব/জেবি