কাজী ফয়সাল
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

নির্দোষ জাহালমের জন্য ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহিত।

নির্দোষ জাহালমের প্রতি নির্মম ও অমানবিক আচরণের দায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিংবা রাষ্ট্র এড়িয়ে যেতে পারে না- উল্লেখ করে দীর্ঘ ৩ বছর কারাগারে থাকা এই পাটকল শ্রমিককে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি উঠেছে।

৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’ নামের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এমন দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধন থেকে জাহালমের ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি উঠে। যেন ভবিষ্যতে তার মতো আর কাউকে বিনা অপরাধে কারাগারে থাকতে না হয় এমনটিও দাবি করা হয় ওই মানববন্ধনে।

সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের একজনের বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা হয়। এর মধ্যে ২৬টিতে জাহালমকে আসামি আবু সালেক হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

পাঁচ বছর আগে চিঠি পেয়ে দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে জাহালম জানিয়েছিলেন, তিনি সালেক নন। বাংলায় লিখতে পারলেও ইংরেজিতে লিখতে জানেন না। কিন্তু, নিরীহ পাটকল শ্রমিক জাহালমের কথা সেদিন দুদকের কেউ আমলে নেননি।

২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের এ সব মামলায় জাহালম গ্রেপ্তার হন। পরে দুদকই বলেছে, জাহালম নিরপরাধ প্রমাণিত হয়েছেন। তদন্ত করে একই মত দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও। আদালতের নির্দেশে গত ৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার- ২ থেকে মুক্তি পান জাহালম।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারেক আলী মানববন্ধনে বলেন, নিরীহ পাটকল শ্রমিক জাহালমকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। আর যেন জাহালমের মতো নির্দোষ কাউকে গ্রেপ্তার করে হয়রানি না করা হয়।

জাহালম চরম অন্যায়ের শিকার হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, অসংখ্য জাহালম, বাংলাদেশের কারাগারে পচে মরছেন। জাহালম দিনের পর দিন শুধু কারাগারে কেঁদেছেন। পরিবার থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। চাকরি থেকে বিযুক্ত রাখা হয়। জাহালমের ক্ষতিপূরণ কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা হওয়া উচিত।

আজকের পত্রিকা/কেএফ