এভাবেই লিচু সাবাড় করছে ছাত্রলীগ।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগের দুই নেতাকে মারধরের ঘটনার জেরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গোদাগাড়ী বাগানের প্রায় সবগুলো গাছের লিচু সাবাড় করে দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

৯ মে বৃহস্পতিবার বিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের পেছনের গোদাগাড়ী বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে ৭ মে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকয়া হলের পেছনে লিচু পাড়তে যায় ছাত্রলীগ নেতা কানন ও মেহেদীসহ বেশ কয়েকজন। এ সময় তাদের বাগান পাহারার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় কয়েকজন তাদের লিচু পাড়তে বাধা দেন। তখন তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে স্থানীয় ওই যুবকেরা। এতে ছাত্রলীগ নেতা কাননের দুই হাত ভেঙে যায় ও মেহেদীর পায়ে গুরুতর জখম হয়। এ ঘটনায় নগরীর মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন আইন অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে মতিহার থানা পুলিশ।

এরপর ৮ মে বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ওই বাগানের সব লিচু পেড়ে ফেলেন। বিকেলের দিকে ছাত্রলীগ নেতা মনিরসহ বিভিন্ন হলের ২০-৩০ নেতাকর্মী লিচু পাড়ছে।

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের ঘটনার পর বাগান মালিক পলাতক রয়েছে। এখন ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের মতো করে বাগানের লিচু পেড়ে খাচ্ছে।’

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা লিচু খাচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সেটা বলতে পারব না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে পাওয়া যায়নি।

বাগানের মালিক আব্দুল্লাহ ইবনে মনোয়ার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমরা এক লাখ বায়ান্ন হাজার টাকায় লিচু বাগানটি ইজারা নিয়েছি।

৭ মে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ছাত্রলীগের আট নেতাকর্মী বাগানে এসে আমাদের দুই প্রহরীকে বেঁধে রেখে গাছ থেকে লিচু নামায়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই।

আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাড়াহুড়ো করে পালানোর সময় তাদের দুজন গাছ থেকে পড়ে যায়। তখন আমরা তাদের দুজনকে ধরে মেরেছিলাম।’

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস