প্রত্যেক মুসলিমদের জীবনে ঈদ হলো অন্যরকম একটা দিন। উৎসবও বটে। তবে এই উৎসব আনন্দময় উৎসব জমে উঠে ঈদকে ঘিরেই। স্বভাবতই এই ঈদকে কেন্দ্র করে উপভোগ করতে সবাই সাধ আর সাধ্যের সমন্বয়ে নানাবিধ প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। কিন্তু মফস্বলের সাংবাদিকরা। বিশেষ করে যারা গ্রামীণ সাংবাদিকতা করেন তাদের ঈদ কেমন কাটে লিখেছেন : দৈনিক যুগান্তর এর খালিয়াজুরী প্রতিনিধি, শফিকুল ইসলাম তালুকদার

আমি সাংবাদিক, অভাগা সাংবাদিক। এই পেশাকে মমত্ব দিয়ে ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি।নুন্যতম হলেও নীতি-নৈতিকতা মেনে চলার চেষ্টা করি। আমি একটি স্থানীয় পত্রিকার পাশাপাশি জাতীয় একটি নামকরা পত্রিকায় উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

আমার মতো হাজারো অভাগা সাংবাদিক রয়েছে, যারা আপন খুশিতে উদযাপন করতে পারছেনা ঈদুল আজহার ঈদ।

আমার মনের ভিতরের জমানো কষ্টের কথা প্রকাশ করে যদি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমি ক্ষমা প্রার্থী। তবুও বলতে চাই ঈদ সবার জীবনে খুশির বার্তা নিয়ে আসে এটা সৃষ্টিকর্তার বিধান।

গ্রামের সাংবাদিকরা যে কিভাবে ঈদ কাটাচ্ছেন সে খবর পত্রিকার প্রকাশক বা সম্পাদকরা রাখেন না! বড় বড় গ্রুপ বা মালিকদের অধীনে কর্মরত আমরা মফস্বল সাংবাদিকদের কথা ভুলেও তারা মনে করেন না। তারা লাখ লাখ টাকা বেতনে সম্পাদক থেকে স্টাফ রিপোর্টার খাটায়, বিভাগীয় ও জেলা প্রতিনিধিদেরও একটি সম্মানজনক বেতন প্রদান করলেও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের খোঁজ খবর রাখেন না তারা।

কখনো বুঝতে চাননা গ্রামের সাংবাদিকরাও মানুষ তাদের রয়েছে ঘর সংসার। দিন দিন বেড়েই চলেছে দ্রব্যমূল্য ও শ্রমবাজার। শুধু বাড়ছে না গ্রামের সাংবাদিকদের শ্রম আর ঘামের মূল্য।

প্রতি মাসে বেতন দেওয়া তো দূরের কথা ঈদ- পূজাতেও খোঁজ খবর নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না। অনেক কষ্টের সংগৃহীত বিজ্ঞাপনের টাকা পেতেও অনেক কষ্ট হয়।

এ কেমন পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করছেন মফস্বল সাংবাদিকদেরকে!

জেলা ও বিভাগীয় সাংবাদিকরা তাদের প্রয়োজনটা উপলব্ধি করেন ঠিকই কিন্তু অধিঃন্থনদের কোন দাবির প্রতি তারা ভ্রূক্ষেপ করেন না।

বছরে দুটি উৎসব গুলোতেও যদি কিছু সম্মানী দেওয়া হতো তাহলেও তো শ্বাস ফেলা যেতো। কিন্তু এমন দূর্ভাগা যে, আমাদের দীর্ঘশ্বাসের কথা বলার কোন জায়গা নেই।

আমরা এমন এক পেশাজীবি মানুষ, আজও রয়েছি মৌলিক অধিকার বঞ্চিত। এর শেষ কোথায় জানিনা! কবে ফিরে পাব গ্রামীণ সাংবাদিকতার হৃতগৌরব।

পরিশেষে শত হতাশার পরও এবারের ঈদ সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ এটাই প্রত্যাশা করি।

  • 232
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    232
    Shares