'এটাই হয়তো আমার জীবনে শেষ জন্মদিন পালন।' ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ইন্তেকাল করেছেন। ১৪ জুলাই রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ৯০ বছর বয়সী এরশাদ রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২২ জুন সিএমএইচে ভর্তি করা হয় তাকে। এর আগেও তিনি একাধিকবার দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নেন।

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অদ্ভুত রহস্যময় চরিত্র হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ , অনেকক্ষেত্রে ঘৃণিতও। রাজনীতির মতো সিরিয়াস একটি ফিল্ডে একজন সাবেক রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে এত হাস্যরসাত্মক কৌতুকের সৃষ্টি এর আগে বাংলাদেশে কখনো হয়েছে বলে জানা নেই। এরশাদ মানেই যেন হাসির পাত্র! অথচ তাঁর ছিল দীর্ঘ এক বর্ণাঢ্য জীবন।

সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত…রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো অলঙ্কিত না কলঙ্কিত করেছিলেন এরশাদ, সেসব বিচার-বিশ্লেষণ হয়তো তাঁর মৃত্যুর পর খুব নগণ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সাবেক এই রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন অংশ নিয়ে আজকের পত্রিকা এই অংশে থাকছে ৯০তম জন্মদিনে তাঁর স্মৃতিচারণা-

২০ মার্চ। ২০১৯ ছিল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ৯০তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে জাতীয় পার্টি থেকে ব্যাপক আয়োজন করা হয়। জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপিকে আহ্বায়ক এবং পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়কে সদস্য সচিব করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট জন্মদিবস উদযাপন পরিষদ গঠন করা হয়।

ওইদিন সকাল থেকেই পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী স্লোগানে-স্লোগানে উৎসবমুখর করে তোলেন ইমানুয়েলস মিলনায়তন। বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে অনেকে ফুল ও কেক নিয়ে হাজির হন। দুপুর ১২টার দিকে এরশাদ মিলনায়তনে পৌঁছালে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ১২টার কিছু পরে ৯০ পাউন্ডের কেক কেটে নিজের জন্মদিনের উৎসবের সূচনা করেন এরশাদ।

ওই অনুষ্ঠানে এইচ এম এরশাদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলাম, কেউ পাশে ছিল না। শত অত্যাচার আমাদের দমাতে পারেনি। শুধু মনের জোরে এগিয়ে চলেছি, তাই শত ষড়যন্ত্র আমাদের ধ্বংস করতে পারেনি।’

‘আমার মতো নির্যাতিত নেতা আর কেউ নেই’উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, অবিচার আর অত্যাচারে যে দল ভেঙে পড়ে না, সে দলকে কেউই ধ্বংস করতে পারবে না। নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করে তোলো, যাতে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যেতে পারে।’

৯০তম জন্মদিনই ছিল এরশাদের জীবনের শেষ জন্মদিন পালন। তিনি নিজেও হয়তো এটা বুঝেছিলেন, এ জন্যই সেদিন নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘এটাই হয়তো আমার জীবনে শেষ জন্মদিন পালন।’

আজকের পত্রিকা/সিফাত