৩১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী প্রকাশক ও ব্লগার ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যার চার বছর পার হলো। ২০১৫ সালের এই দিনে রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। চার বছর পেরিয়ে গেলেও মামলাটির বিচারকার্য শেষ হয়নি এখনো।

দীর্ঘদিন এই মামলায় হাজিরা দিতে দিতে হতাশ দীপনের পরিবার। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন দীপনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকও। গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘পুলিশের অভিযোগপত্র দেওয়ার এক বছর পরও বিচারিক কার্যক্রম তেমন দেখা যাচ্ছে না। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক আমরা এই আশা করি।’

আলোচিত এ মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। ২০১৫ সালে দীপন হত্যার তিন বছর পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফজলুর রহমান ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে দু জন পলাতক, বাকি ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর দু জন পলাতকসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। একই সঙ্গে বিচারক সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৮ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য মামলার বাদীসহ (দীপনের স্ত্রী ডা. রাজিয়া রহমান) তিনজনের বিরুদ্ধে বিচারক সমন ইস্যু করেন।

মামলার অভিযোগপত্রে আসামিদের মধ্যে আছে- মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ, মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আবদুর সবুর সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে স্বাদ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার ও শেখ আবদুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের। তাদের মধ্যে মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া এবং আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ পলাতক।

এছাড়া অভিযোগপত্রে ১১ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। তারা হলো− আরাফাত রহমান, সেলিম ওরফে হাদী, আলম, আকাশ, তৈয়ব, জনি, আসাদ, হাসান, তালহা, শরিফুল এবং তারেক।