সিলেট ওসমানী মেডিকেলের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. মো: ইউনুছুর রহমান (এসপিপি, এমবিবিএস, এমপিএইচ. এম. পিল এর সাথে কথা বলছেন আজকের পত্রিকার সিলেট ব্যুারো।

সিলেট ওসমানী মেডিকেলের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. মো: ইউনুছুর রহমান (এসপিপি, এমবিবিএস, এমপিএইচ. এম. পিল) বলেছেন, ‘দালালমুক্ত ওসমানী মেডিকেল গড়ে তোলা হবে’। আর এ লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের সাথে নিজ কার্যালয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, কুলাউড়া বরমচালে রেল দূর্ঘটনায় সরকার আন্তরিকভাবে মোকাবিলা করেছে। রেলমন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আন্তরিক ভাবে সচেষ্ট হয়ে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার বিজিবি ও সেনাবাহিনী ছিল সচেষ্ট। আমরা টিভিতে স্কল দেখে মনে করে ছিলাম হতাহতের সংখ্যা অনেক হতে পারে। প্রায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বে-সরকারি ক্লিনিকগুলোকে ও সিওএমএইচকে আমরা প্রস্তুত করে রেখেছিলাম। কিন্তু দূর্ঘটনায় নিহতদের সংখ্যা দাড়িয়ে ছিল ৪জন ও আহত ২৪জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল সর্ম্পুন সরকারি খরচে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এদের মধ্যে ২জন ওসমানীতে চিকিৎসাধীন আছেন। আর কয়েকজন আছেন, কুলাউড়া সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মৌলভী বাজার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭জন এবং অন্যান্যরা প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। সরকারিভাবে আহতদের ১০হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার ওসমানী মেডিকেল কলেজের নিহত ছাত্রী (নার্স) জালালপুরহস্ত বাড়িতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১লক্ষ চেক প্রধান করা হয়েছে। এদিকে মেডিকেল কলেজ ছাত্রীদের নিহতদের ঘটনায় ৩দিন ব্যাপী শোক কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন সিলেট ওসমানী মেডিকেল শাখা।

বৃহস্পতিবারও তাদের মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি রয়েছে।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ওসমানী মেডিকেলে রোগীদের সুবিধা বেড়েছে দাবি করে বলেন, দালালমুক্ত করতে প্রাণপণ চেষ্টা চলছে এবং ওসমানী মেডিকেলে রোগীদের স্বজনদের কাছ থেকে গেইটে টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার পরেও অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসময় তিনি ট্রেন দূর্ঘটনায় সাথে সাথে ভূয়সী ভূমিকা রাখায় কুলাউড়া হাসপাতালের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নুরুল হকসহ অন্যান্যদের প্রশংসা করেন।

পরে সাংবাদিকরা ওসমানী মেডিকেলের স্টাফদের রোগীদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ, বহিরাগত ফার্মেসীদের দালালি, ১৪শত টাকার বিলে ১৪হাজার টাকা বিল করার বিষয়ও তোলে ধরেন পরিচালকের কাছে। অবশেষে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জের এক ইউপি সদ্যসের মালিকানাধীন ফার্মেসী প্রতিষ্ঠান বলেও জানান তারা। রোগীদের সকল ধরনের হয়রানি বন্ধ করতেও পরিচালকের কাছে অনুরোধ জানান মিডিয়া কর্মীরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সিলেটের, সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. দেবপদ রায়, আফসার উদ্দিন, সহকারি পরিচালক প্রশাসন আবুল কালাম আজাদ, ডা. সুপান্ত ভট্টাচার্য্য, বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন সিলেট ওসমানী মেডিকেল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল আলী সাদেক, সহ সভাপতি ভ্রান্তি বালা দেবী, কোষাধ্যক্ষ নিলুফা ইয়াসমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দ চন্দ্র দাস, যুগ্ম সম্পাদক সুলেমান আহমদ প্রচার সম্পাদক নাজির আলম, সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ ও মিডিয়া কর্মীরা। অবশেষে ওসমানী মেডিকেলে অতিরিক্ত রোগীর সেবা দেওয়া হচ্ছে ত্র“টি বিচ্যুতি পর্যায়ক্রমে নিরসন করা হবে বলে জানান পরিচালক।

আজকের পত্রিকা/এমএআর শায়েল