সম্পর্ক গড়ার পেছনে যেমন স্মার্টফোনের অবদান আছে, আবার সম্পর্ক ভাঙার কারণও এই স্মার্টফোন। ছবি: সংগৃহীত

তথ্য ও প্রযুক্তির অবদানে আমাদের সবার হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবার কারণ এই স্মার্টফোন। একটি চাপ দিলেই যখন তখন যাকে তাকে ফোন দেয়া যাচ্ছে। যার ফলে নতুন সম্পর্ক গড়াও সহজ হয়ে যাচ্ছে। স্মার্টফোন যেমন দৈনন্দিন জীবন দিন দিন সহজ করে দিচ্ছে, ঠিক তেমনি তার ফলে সর্বনাশও ডেকে আনছে। সম্পর্ক গড়ার পেছনে যেমন স্মার্টফোনের অবদান আছে, আবার সম্পর্ক ভাঙার কারণও এই স্মার্টফোন। কথাটা হাস্যকর মনে হলেও, উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিজ্ঞানের এই আবিস্কারের ফলে সামাজিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আশে পাশে প্রচুর বিচ্ছেদের ঘটনা আমরা শুনতে পাই। দাম্পত্য জীবনের বুনিয়াদ হলো মনের সঙ্গে শরীরের সঠিক মিলমিশ। নানাবিধ কারনেই সৃষ্টি হচ্ছে দাম্পত্য কলহ, যার ফলাফল সংসার ভাঙন। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, যৌনজীবনে অনাগ্রহ ও বিছানায় অনীহা বিশ্বের প্রায় সব দেশের দম্পতিদের মধ্যেই দেখা দিচ্ছে। আর তার মূলে রয়েছে স্মার্টফোন।

সোশ্যাল মিডিয়ার এই মোহ পাশ কেটে সঙ্গীর দিকে মনযোগ দেওয়ার সময়ই থাকছে না। ছবি: সংগৃহীত

বেডরুম হলো দুজনের মিলনকেন্দ্র। মিলনকেন্দ্রেই বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে স্মার্টফোনের হাতছানি। সোশ্যাল মিডিয়ার এই মোহ পাশ কেটে সঙ্গীর দিকে মনযোগ দেওয়ার সময়ই থাকছে না। এমনকি সদ্য বিবাহিতরাও বাদ নন এই তালিকা থেকে। যার ফলে তৈরি হচ্ছে নানা সামাজিক ও সাংসারিক জটিলতা।

এক হাজার দম্পতির মধ্যে পরীক্ষা চালালে দেখা যাবে যে, তিন-চতুর্থাংশই একান্ত ব্যক্তিগত সময় কাটানোর চেয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পরে যার যার মোবাইল ফোন নিয়ে। ঘটনা এতটুকুই নয়। দেখা যায়, ঘুমুতে যাওয়ার পূর্বে জীবনসঙ্গীর মুখ নয় বরং মোবাইল দেখেই চোখ বুজেন তারা।

যৌনজীবন ছাড়াও দাম্পত্য জীবনে দুজনের মধ্যে বিরাট দূরত্বের কারণ হলো মোবাইল ফোনের উপর আসক্তি। নিজের জীবনসঙ্গীর সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কও ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি মোবাইল আসক্তির কারণে তাদের মধ্যে বিশেষ কোনও শারীরিক সম্পর্ক নেই বহু দিন ধরেই।

মোবাইল ফোনে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় কাটানোর ফলে বিশ্বাসের জায়গাটি নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

এছাড়াও দম্পতির মধ্যে সন্দেহের প্রবনতা বেড়ে উঠছে এই মোবাইল ফোনের জন্যই। সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসার বদলে মোবাইল ফোনে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় কাটানোর ফলে বিশ্বাসের জায়গাটি নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে।

মোবাইল ফোন বা ভার্চুয়াল জগতে এতটাই আসক্ত হয়ে পড়ছে যে সঙ্গীর সাথে সময় কাটানোর পরিবর্তে নতুন নতুন বন্ধু, তাদের সাথেই ঘুরতে যাওয়া, ছবি তোলা, আপলোড করা ইত্যাদিতে ব্যস্ত। এদিকে সঙ্গী ও সংসার দুটোই শেষের পথে তা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই।

মানুষ নিজেকে নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ছে যে, সেখানে সামাজিক বন্ধন, দায়-দায়িত্ব এমনকি সন্তানের দায়ভারও ফিকে হয়ে আসছে। নিজের জগৎ, নিজস্ব ব্যস্ততা ও জীবনের দ্রুততার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে বাড়ছে অবসাদ। ফেসবুক, টুইটার এবং ইন্সটাগ্রাম আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো থেকে সব উত্তেজনা এবং রোমান্স কেড়ে নিচ্ছে। এসব নিয়ে আমরা এতটাই বুঁদ হয়ে থাকি যার ফলে সঙ্গী বা সঙ্গিনীর কথা হয়তো অনেক সময় মনেই থাকে না। কিন্তু সচেতনভাবে তার উপস্থিতি অনুভব করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের পত্রিকা/রিয়া