নেতিবাচক মানসিক অবস্থা এক নিমেষে ভালো করে দিতে পারে সঙ্গীত। ছবি : সংগৃহীত

মন খারাপ, রাগ, বিরক্তি, বিষণ্ণতা এসব নেতিবাচক মানসিক অবস্থা এক নিমেষে ভালো করে দিতে গান বা সঙ্গীতের ভূমিকা যে অসীম তা সকলেই জানেন। মনোবিজ্ঞানের জার্নাল ফ্রন্টিয়ার্সে প্রকাশিত একটি গবেষণায় জানা গেছে যে, অন্যদের সঙ্গে একসাথে বসে গান শুনলে মন ভালো হয় বেশি, ব্যক্তিগত বন্ধন তৈরি হয় ও তা শক্তিশালীও হয়। অনেকের সঙ্গে মিলে গান শোনা মন ও সামাজিক সম্পর্কের উপরও প্রভাব ফেলে।

দলগত ভাবে মন কেমন করা গান বা সঙ্গীত শুনলে ঠিক কিভাবে তা আমাদের মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে এবং চিন্তাধারা, বিষণ্নতা কিভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় তা প্রমাণ করেছেন গবেষকরা। ৬৯৭ জন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে সঙ্গীতের ব্যবহার, সঙ্গীতের ধরণ এবং সঙ্গীত শোনার প্রভাব সম্পর্কে অনলাইন সমীক্ষা করেন এই গবেষকরা। বিভিন্ন প্রশ্নে গবেষকরা বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং চাপের উপসর্গগুলির উপস্থিতির কারণ নির্ধারণ করেন এবং বিষণ্নতা প্রতি সাধারণ প্রবণতা, তা কাটিয়ে ওঠার উপায় খোঁজা, বা বেরিয়ে আসার জন্য মানসিক দ্বন্দ্ব- সমস্তটাই খতিয়ে দেখেন তাঁরা।

গবেষকরা দেখেন একা একা দুঃখের গান বা সঙ্গীত শোনার সময় এবং দুঃখজনক বিষয় নিয়ে কথা বলার ফলে মানুষ বেশি বিষণ্ণ হয়ে পড়েন। দল বেঁধে অনুপ্রেরণার সঙ্গীত শুনলে, সঙ্গীত এবং জীবন নিয়ে আলোচনা করলে তা জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং মানুষ ভালো থাকেন।

গবেষক সান্দ্রা গ্যারিডো আরও ব্যাখ্যা করেন যে, “সঙ্গীত ব্যবহার সম্পর্কিত আচরণগুলি স্বতন্ত্র বা অস্বাস্থ্যকর চিন্তার প্রক্রিয়াগুলিকে প্রতিফলিত করে। বিষণ্ণতায় গান আরও মনখারাপের গান একা একা শুনলে মানসিক চাপ বাড়ে।”

সান্দ্রা বলেন, “কম বয়সীরা, যারা সামাজিক নানা গোষ্ঠীর অংশীদার তাঁদের ডিপ্রেশনের ঝোঁক বেশি। আমাদের গবেষণা বলছে, দলগতভাবে গান শুনলে মিথস্ক্রিয়াগুলির ইতিবাচক প্রভাবগুলি বাড়ে।”

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/