'ব্লেম গেইম খেলে কোনো লাভ নেই আর, আমাদের পথ খুঁজে বের করতে হবে।' ছবি: আজকের পত্রিকা

বছরের পর বছর ধরে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অনবরত বলা হয়েছে দেশে কোনো খাদ্যে ভেজাল নেই। কোনো ল্যাব বা রিসার্চ রিপোর্ট প্রকাশ তো দূরের কথা, সামান্যতম ব্যবস্থা নেওয়ার কথা কেউ চিন্তা করেনি। মাটি, পানি, সার কীটনাশক, ফিড যদি দুষিত হয়, গুড এগ্রিকালচার, একোয়াকালচার, গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস যদি না থাকে তবে সব খাদ্য ধ্বংস হবেই। যেটাতে হাত দেবেন, সেটাই শেষ। ল্যাব টেস্ট করার দরকার নেই।

ঢাকার বাজারের সব ধরনের সবজি পরীক্ষা করেছে একটি ল্যাব, প্রায় ১২% নমুনাতে মাত্রার অনেক উপরে কীটনাশক পেয়েছে তারা। মাটি পরীক্ষা করেছে একটি ল্যাব, ৮০% মাটিতে ভরা সীসা। এই মাটিতে যা চাষ হবে, সবকিছুতেই সীসা পাবেন। ল্যাব পরীক্ষা করার দরকার নেই। ফিডে ট্যানারি বর্জ্য আর এমবিএম (মিট এন্ড বোন মিল) থাকলে গরু মুরগী দুধ ডিম মাছ, সব কিছুতেই হেভি মেটাল পাবেন। ল্যাব টেস্ট করার দরকার নেই। এন্টিবায়োটিক পুশ করে বা ফিডে যদি এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয় এবং উইথড্রল পিরিয়ড না মেনে বাজারজাত করা হয়, সেই খাদ্যে এন্টিবায়োটিক পাওয়া যাবেই। ল্যাব টেস্টের কোনো দরকার নেই। এটাই বিজ্ঞান।

এমনকি শাক সবজিতেই সীসা পাওয়া গেছে। আরও কিছু লিস্ট ছিল, যা বলা সম্ভব নয়। তবে এতটুকু বলছি দলাদলা বিষ খাওয়াচ্ছি আমরা আমাদের বাচ্চাদের, সাথে নিজেরাও খাচ্ছি। এই হচ্ছে আমাদের অবস্থা। অথচ সমানে ঢোল পেটানো হয়েছে খাবার কোনো ভেজাল নেই আমাদের। আমরা যদি সব কিছু লুকিয়ে না রেখে এই প্রকৃত চিত্র ৫ বছর আগে প্রকাশ করতাম, তাহলে ৫ বছর আগে থেকে শুরু করতে পারতাম আমরা। পাঁচ বছর এগিয়ে থাকতাম।

ব্লেম গেইম খেলে কোনো লাভ নেই আর, আমাদের পথ খুঁজে বের করতে হবে। এখন কী করে এইসব সমস্যা দূর করা যায়, তার চিন্তা করুন। ফুড চেইনের গোড়া খুঁজে বের করে সেখানে হাত দিতে হবে আমাদের। ধৈর্য্য ধরতে হবে। শিল্পের দোষ যতটুকু; তার চেয়ে বেশি দোষ আমাদের, যারা দায়িত্ব পালন করেনি ঠিকমতো। আমরা আশাবাদী, পারবো আমরা ইনশাআল্লাহ।

লেখক: মাহবুব কবির মিলন; অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ নিরাপত্তা খাদ্য কর্তৃপক্ষ

আজকের পত্রিকা/সিফাত