মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

ফটিক চরিত্রে সাজু খাদেমের সঙ্গে ইফতেখার পলাশ। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপফুটবল খেলার এক কুইজে এসএমএস পাঠিয়ে চার রাত তিনদিনের কক্সবাজার ভ্রমনের টিকেট জিতে নেয় বাদল। বাদলের ইচ্ছা ছিলো এই সুযোগে বিয়ে করে বৌসহ হানিমুনে বেড়াতে যাবে সে। বাদলের বয়স বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু শালাসহ বৌকেও খাওয়াতে হবে সেইজন্য দুলাভাই সালার বিয়ে দিতে রাজি না।

বাদলের দুলাভাই অর্থাৎ সুমনার স্বামী রিপন হচ্ছে- কিপ্টা দ্য গ্রেট। বাদলকে সে দুই চোখের পাতায় দেখতে পারে না। বিয়ে করলেই বৌ নিয়া এই সংসারে উঠবে, আর একটা প্লেট বাড়বে। এরপরে বাচ্চা কাচ্চা, আর একটা প্লেট..!

এরমধ্যেই রিপন তার স্ত্রী ও শালাসহ কক্সবাজারে পৌছে। বৌ আর শালা সারাক্ষণ রিপনের টাকা খসানোর জন্য উঠে পরে লেগে যায়। খরচের ভয়ে রিপন বাড়ি থেকে চিড়া, মুড়ি, গুড়, পাউরুটি সবই নিয়ে আসে। কিপ্টা ঠিকই গুড় মুড়ি খেয়ে সময় কাটায় কিন্তু তার টাকায় অন্যরা সবাই রূপচাঁদা, লবস্টার খায়।

এদিকে আবিদ নামের হোটেলের মালিকের ভাগনা কাম ম্যানেজারের সাথে পরিচয় হয় ওদের। আবিদ একজন মহা কবিয়াল। এই হোটেলে বেড়াতে আসা নিশাতের সাথে একটা সম্পর্ক তৈরী হয় আবিদের। নিশাতের বান্ধবী মুনিয়া। দেশে বেড়াতে এসে বান্ধবী নিশাতের সাথে সেও এসেছে এখানে। মুনিয়া আবার সুমনা ও বাদলের পূর্ব পরিচিত। মুনিয়ার সাথে বাদলের একটা সম্পর্ক তৈরী হয়। আর এক নতুন বোর্ডার জিনিয়া ওঠে এই হোটেলে। সে সারাক্ষণ হট মেজাজ নিয়ে ঘুড়ে বেড়ায়। সে এখানে আসার কারণ, তার বয়ফ্রেন্ড নাকি অন্য কোন এক মেয়েকে নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছে। এদিকে বাদলকে ভালোবেসে মুনিয়া এখানে থেকে যেতে চায় আরও কয়েক দিন। ওদিকে নিশাত ও আবিদকে ভালোবেসে আরও কিছু সময় কক্সবাজারে তার সাথে কাটাতে চায়। ঘটনা পরিক্রমায় জায়রা খুজে পায় তার বয়ফ্রেন্ডকে।

অন্যদিকে ফটিক হচ্ছে আবাসিক হোটেলের কেবিন বয়। ‘কইলেই তো কন বেশি কথা কই’- এটা তার একটি মূদ্রাদোষ। টিপিক্যাল একটি চরিত্র। সারাদিন টো টো করে বেড়ায়। কখন নতুন গেস্ট উঠবে এই হলোতারধান্ধা, কারণ বকশিস পাওয়া যাবে। তার প্রধান কাজ বয়ের কাজ না, প্রধান কাজ হচ্ছে- সব রুমের দরজার বাইরে কিংবা চাবীর ফুটো দিয়ে ব্যাক্তিগত ইনফরমেশন কালেক্ট করে আবিদের কাছ থেকে বকশিস খাওয়া আর সবার মধ্যে পেজগী লাগিয়ে দেওয়া। নাটকের শেষ পর্যন্ত ফটিক তার গুপ্তচরগীরী চালিয়ে যায় নতুন নতুন উদ্যমে।

এভাবেই নানারকম হাস্য রসাত্বক আর কৌতুকের মধ্যে আগাতে থাকবে ‘কিপ্টা দুলাভাই’ নাটকের গল্প। নাটকের অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান, আরফান আহমেদ, নাদিয়া মিম, এলভিন, সাজু খাদেম, শ্রাবণ্য, আসাদুজ্জামান প্রমূখ। নাটকটি প্রচার হবে বৈশাখী টিভিতে ঈদের প্রথমদিন থেকে সপ্তমদিন পর্যন্ত প্রতিদিন ৫:১৫ মিনিটে বৈশাখী টেলিভিশন-এ।

আসাদুজ্জামান সোহাগ এর লেখা ও রুমান রুনি’র পরিচালনায় বৈশাখী টেলিভিশন এর জন্য নির্মিত ঈদের এই বিশেষ নাটকে ফটিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন বহুমাত্রিক অভিনেতা ইফতেখার পলাশ। প্রায় দেড়যুগেরও বেশি সময় ধরে শিল্প-সংস্কৃতির সাথে জড়িত আছেন প্রতিশ্রুতিশীল সংগঠক ও তরুণ বহুমাত্রিক অভিনেতা ইফতেখার। উন্নয়ন সংস্থায় চাকুরীর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়ায় নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন এই অভিনেতা। সব ধরনের চরিত্রের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়াই যেন এই অভিনেতার অন্যতম প্রধান গুণ। কি কমেডি, কি সিরিয়াস অথবা বিমূর্ত যেকোন ধরনের চরিত্রে নিজেকে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করেন ইফতেখার।

অভিনয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন থিয়েটার স্কুল ও সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটার (সিএটি) থেকে। মঞ্চে কাজ করেছেন মোমিনুর রশীদ মিল্লাত, রতন সাহা, দেবাশীষ ঘোষ, আশীষ খন্দকার, নায়লাআযাদ নুপুর, ইসাকা সাওয়াদোগো, কামাল উদ্দিন নীলু, অসীম দাশ, তুহিন অবন্ত ও আব্দুল হালিম প্রামানিক সম্রাট এর নির্দেশনায়। ২০০৩ সালে মামুনুর রশীদের একটি একক নাটকে প্রথম ক্যামেরার সাথে পরিচয় ঘটলে ওখান মোহাম্মদ বদরুদ্দিন পরিচালিত চ্যানেলআই এর ধারাবাহিক নাটক ফানুস টেলিভিশন অভিনয়ের প্রথম টার্নিং পয়েন্ট। এর মধ্যেই কাজ করেছেন সালাহউদ্দিন লাভলু, মাসুদ মহিউদ্দীন, তুহিন অবন্ত, চয়নিকা চৌধুরী, রুমান রুনীসহ বেশক’জন খ্যাতিমান পরিচালকদের সাথে।

আজকের পত্রিকা/এমইউ