দরগ্রাম বিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্রী পানি শূন্যতায় অসুস্থ হয়ে পড়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০ টার দিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসএমলি ক্লাসের পর শিক্ষকরা মাঠের ময়লা পরিস্কার করার সময় শতাধিক ছাত্রী অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমন খবর পেয়ে অভিভাবক ও শিক্ষাথীরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে উত্তেজিত জনতা দরগ্রাম বাজার শিক্ষকদের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

সাটুরিয়া ৫০ শয্যা হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মামুন উর রশিদ হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের হাপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বুধবার সকালে এসএমলি স্কাস নেন শিক্ষকরা। পরে আমাদেরকে দিয়ে শিক্ষকরা জোর করে রোদের মধ্যে মাঠ পরিস্কার করান। প্রায় আধা ঘন্টা মাঠ পরিস্কার সময় আমরা অতিরিক্ত রোধ ও গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ি।

পরে স্থানীয়রা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও সাটুরিয়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে সাটুরিয়া হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপালের চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন। বেড ছাড়াও হাসপাতালের মেঝের কোথায় স্থান নেই। অন্তত ২০- ২৫ জন ছাত্রীদের তখনও জ্ঞানই আসেনি।

অপরদিকে অভিভাবকরা ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এমন খবর শুনে প্রথমে বিদ্যালয়ে আসে। তারা প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমানকে তার কক্ষে তালা মেরে অবরুদ্ধ করে রাখে।

পরে উত্তেজিত জনতা শিক্ষকদের বিচারের দাবীতে দরগ্রাম বাজারের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে। এসময় সাটুরিয়া – দরগ্রাম সড়কে তিব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এমন খবর পেয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ ফটো ও সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মতিয়ার মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ কারীদের শান্ত করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসে। পরে তারা শিক্ষক, অভিভাবকদের নিয়ে জুরুরী সভা করে পরিবেশ শান্ত করে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঝুমা, রিমা ও সাথি বলেন, আমরা এসএমলি ক্লাস করার ক্লাসের দিকে যাচ্ছি। এমন সময় শিক্ষকরা আমাদের দিয়ে মাটের ময়লা পরিস্কার করান। প্রচন্ড গরমে আমরা অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।

শিক্ষার্থীর পিতা বিল্লাল হোসেন বলেন, আমার কন্যাসহ এত শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হড়ে পড়ল। যদি কোন বড় ধরনের ক্ষতি হত এর দায় ভার কে নিতো।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মামুন উর রশিদ বলেন, গরমে পানি শুন্যতা হয়ে ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমার এখানে ৫০ জন ছাত্রী ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছে। ১০ জনের মত মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে বাকী ছাত্রীরা বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ী চলে গেছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিুকুর রহমান কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ ব্যপারে সাটুরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে আমরা ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি। আগামী সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ে একটি সভা করব। তখন বিষয়টি তদন্ত করে দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যাবস্থা গ্রহণ করব।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মতিয়ার মিঞা বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে একটি সভা করেছি। আরেকটি সভা করে উপজেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ করব। বুধবার বিকাল ৪ টা পর্যন্ত কোন অভিভাবক আমার নিকট লিখিত অভিযোগ করেননি।

শাহজাহান বিশ্বাস/মানিকগঞ্জ