থানায় আটকে রেখে নির্যাতন, সংবাদ সম্মেলনে আমতলী থানার ওসির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

বরগুনার জেলা পরিষদ সদস্য জিমি ইটভাটার মালিক আবুল বাশার নয়ন মৃধার পক্ষ নিয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থানায় পাঁচ ঘন্টা থানায় আটকে রেখে শাহিদা আক্তার সুমি নামের এক নারীকে মানসিক নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার বিকেলে আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়নে এ অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শাহিদা আক্তার সুমি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুমি বলেন, আমতলী পৌর শহরের নতুন বাজার হাসপাতাল সড়কের ব্যবসায়ী বরগুনা জেলা পরিষদ সদস্য আবুল বাশার নয়ন মৃধা ২০১৪ সালে উপজেলার সেকান্দারখালী গ্রামে জিমি ব্রিকস নামে ইটভাটা নির্মাণ করেন।

ওই জমির পাশে আমার জমি রয়েছে। ২০১৭ সালে নয়ন মৃধা তার ভাটার পরিধি বাড়াতে আমার জমি জোড়পূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে আবুল বাশার নয়ন মৃধার সাথে আমার একাধিক মামলা রয়েছে।

আবুল বাশার নয়ন মৃধা তার ইটভাটার আরো পরিধি বাড়াতে পার্শ্ববর্তী আব্দুল বারেক হাওলাদার ও আব্দুর রাজ্জাক  হাওলাদারের ২ একর ৬৩ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা চালায়।

এ নিয়ে আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের পুত্র সাইমুন ইসলাম রোমেন গত ৬ নভেম্বর বরগুনা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালতে মামলা দায়ের করেন।

যার মামলা নম্বর-এমপি-১৮৫/১৯।

আদালতের বিচারক মোঃ নুর হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে গত ১৩ নভেম্বর ইটভাটা ও পার্শ্ববর্তী জমিতে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা জারি করেন।

আদালতের বিচারক আমতলী থানাকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশও প্রদান করেন। আদালতের আদেশ অমান্য করে বরগুনা জেলা পরিষদ সদস্য জিমি ব্রিকস মালিক আবুল বাশার নয়ন মৃধা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনি নিয়ে গত শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে ইটভাটা সংলগ্ন নীলগঞ্জ মৌজার এস.এ ২১৩ খতিয়ানের আব্দুল বারেক হাওলাদার ও আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদরের জমি দখল করতে জমিতে ইটভাটায় ইট বিছিয়ে পিলার পুতে কাজ শুরু করেন।

এ ঘটনা নিয়ে সাইমুন ইসলাম রোমেন ও নয়ন মৃধার লোকজনের সাথে সংঘর্ষে বাঁধে। এ ঘটনায় আমার কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল না। ওইদিন জেলা পরিষদ সদস্য আবুল বাশার নয়ন মৃধার যোগসাজসে আমতলী থানার ওসি আবুল বাশারের নির্দেশে এসআই মোঃ ফয়সাল আমাকে আমার জমি থেকে ধরে থানায় নিয়ে আসে।

পরে ওসি আবুল বাশার আমাকে অন্তত পাঁচ ঘন্টা থানায় আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেছেন। আমি তার এমন আচরনের প্রতিবাদ করলে আমাকে মামলায় জড়িয়ে হররানী করার হুমকি দেন। পরে জেলা পরিষদ সদস্য আবুল বাশার নয়ন মৃধার চক্রান্তে আমার ছোট ভাই রুপক তালুকদারকে আসামী করে মামলা দেয়।

আমি এ ঘটনার তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে বরগুনা পুলিশ সুপারসহ কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করছি।

আমতলী থানার ওসি মোঃ আবুল বাশার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি শাহিদা আক্তার সুমিকে কোন ধরনের নির্যাতন করিনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।

-মিজানুর রহমান/বরগুনা