লালমনিরহাটে বন্যা কবলিত মানুষ।

লালমনিরহাটে সৃষ্ট বন্যায় প্রকৃত বানভাসিদের ত্রাণের স্লিপ না দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গ্রাম পুলিশরা তাদের আত্মীয় স্বজন ও সু-সম্পর্কের ব্যক্তিদের ত্রাণের স্লিপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে চলছে স্বজন-প্রীতি। এতে করে প্রকৃত বানভাসিদের কপালে মিলছে না ত্রাণ সামগ্রী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তী খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের বানভাসি রুবিয়া বেগমের দুটি ঘর তিস্তার পানিতে ভেসে গেছে। নিরুপায় হয়ে রাস্তার ধারে পড়ে আছেন খোলা আকাশের নিচে। সব কিছু ভেসে নিয়ে গেছে তিস্তা, পেটে দেয়ার মতো নেই কোন খাবার।

সোমবার (১৫ জুলাই) রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত অনাহারে থাকার পরে বাধ্য হয়ে অন্যের কাছে চেয়ে একটু খাবার চেয়ে নিয়ে খেয়েছে রুবিয়া বেগম। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো ত্রাণ সহযোগিতা পাননি সে। একই অবস্থা বানভাসি আমেলা বেগমের। পানিতে ভেসে গেছে তারও ঘর-বাড়ী। তবে এখনো জোটেনি সরকারী কোন ত্রাণ। অথচ খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় সরকারি ভাবে একাধিকবার ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বলে তার দাবী। কিন্তু প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ বানভাসিদের অনেকেই পাননি সরকারী ত্রাণ।

এই অবস্থা শুধু খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদ নয় একই অবস্থা লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর, মোগলহাট, কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের। এমন অভিযোগ একাধিক বানভাসি পরিবারের।

বানভাসি পরিবারগুলো জানান, সরকারী অফিসাররা যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ দেয় অথবা তারা এসে তালিকা করে নিয়ে যায় তখন বন্যায় প্রকৃত ভাবে যারা ক্ষতিগ্রস্থ তারাই শুধু ত্রাণ পান। কিন্তু যখন অফিসাররা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বারদের তালিকা করতে বলে তখন তারা পরিষদের ভিতরে বসে তাদের নিজেদের আত্মীয়-স্বজন এবং সু সম্পর্কের লোকজনদের নামের তালিকা করেন। এ সময় গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আত্মীয়দেরও নাম দেয়া হয়।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ একাধিক ব্যক্তিরা জানান, খুনিয়াগাছ ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত যত বার স্লিপের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরন করা হয়েছে তত বারেই প্রকৃত বানভাসিদের অধিকাংশরাই ত্রাণ পাননি, বি ত হয়েছেন সরকারী ভাবে সাহায্য থেকে। যাদেরকে স্লিপ এর মাধ্যমে ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হয়েছে তাদের সে নামের তালিকা নিয়ে তদন্ত করলেই মিলবে লালমনিরহাটে বন্যা কবলিত এলাকায় কতটা স্বজন-প্রীতি হয়েছে ত্রাণ বিতরন নিয়ে।

খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ আসতেই পারে এতে কিছু করার নেই। আমার ইউনিয়নে ৫ হাজার লোক পানিবন্দি আর এখানে ত্রাণ দেয়া হয়েছে মাত্র ৫ শতাধিক মানুষকে। ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ আসবে এটাই স্বাভাবিক। তবে তিনি প্রকৃত বানভাসিরাই ত্রানের স্লিপ পেয়েছেন বলে দাবী করেন।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়শ্রী রানী রায় জানান, আমরা যে পরিমান ত্রাণ পাচ্ছি তা ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তালিকা করে তা বিতরন করছি। যদি কেউ ত্রাণ না পেয়ে থাকেন পরবর্তীতে বরাদ্দ আসলে তাদের নিকট ত্রাণ পৌচ্ছে দেয়া হবে।

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না/লালমনিরহাট