২০ অক্টোবর রবিবার ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৌহিদি জনতা’র ৬ দফা দাবি মেনে নিলো প্রশাসন। দাবি মেনে নেওয়ায় সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ব্যানারে ২১ অক্টোবর সোমবারে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ২০ অক্টোবর ভোলার বোরহানউদ্দিনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের বিচারের দাবিতে তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ থেকে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন। নিহত চারজনকে নিজেদের কর্মী-সমর্থক বলে দাবি করেছে তৌহিদি জনতা। সংঘর্ষে পুলিশের ১০ সদস্যসহ দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় পুলিশের দাবি ওই যুবকের হ্যাক হওয়া আইডি থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বক্তব্য ছড়ানোর ঘটনা থেকে এ পরিস্থিতির সূত্রপাত। এ সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনের এমপি আলী আজম মুকুল, বরিশাল পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শফিকুল ইসলাম, ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. এনামুল হকসহ বিভাগীয় জেলার কর্মকর্তারা তৌহিদি জনতা’র নেতাদের সঙ্গে বোরহানউদ্দিন থানায় মতবিনিময় সভায় বসেন। সেখানে এই সংগঠনের নেতারা ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

এই ৬ দফা দাবির মধ্যে আছে-

  • জেলা ও থানা থেকে এসপি এবং ওসিদের প্রত্যাহার করতে হবে
  • ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করার অনুমতি দিতে হবে
  • আহত লোকজনের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে
  • নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে
  • অভিযুক্ত বিপ্লব চন্দ্র শুভর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ফাঁসি দিতে হবে এবং
  • গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে

তৌহিদি জনতার এই ৬ দাবি প্রশাসন মেনে নিয়েছে। তারা কেবল বলেছে, ফাঁসি নয়, যেই অপরাধী শনাক্ত হোক না কেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হবে। দাবি মেনে নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতার পর তৌহিদী জনতা সোমবারের সমাবেশ বাতিল করেছে।

আজকের পত্রিকা/সিফাত