'এই অনুষ্ঠানের শুরুতেই ঘোষণা দেওয়া হয় 'সত্য ঘটনা অবলম্বনে' অনুষ্ঠানটি নির্মিত।' ছবি: সংগৃহীত

১) দ্বিতীয় সন্তান হবার পর প্রাইমারি স্কুলের দপ্তরী বাবা মসজিদের হুজুরকে দুপুরে দাওয়াত করে এনে অনেক আলোচনা করার পর ছেলের নাম ঠিক করলেন মো. বরকত আলম। ছোটবেলা থেকেই বরকত লেখাপড়ায় ভালো হবার কারণে সবাই তাকে স্নেহ করতো। ষ্টার মার্কস নিয়ে এসএসসি পাশ করায় গ্রামের মধ্যে হইচই পড়ে গিয়েছিল। উচ্চ মাধ্যমিকে উপজেলার কলেজে ভর্তি হলো। ভালো রেজাল্টের জন্য কলেজে সকলের মধ্যমণি ছিল। বিষয়টি বরকত উপভোগ করতো। যাই হোক, অনেক ভালো লাগার মাঝে নিজের নামটা তার কাছে বড্ড সেকেলে মনে হতো। দেরি না করে নিজের নামটা বদলে রাখলো ‘রোমান্স’। খুব তাড়াতাড়ি ‘রোমান্স’ নামেই সে কলেজে পরিচিত হয়ে উঠল।

২) গ্রাম থেকে ষ্টার মার্কস নিয়ে এসএসসি পাশ করার পর কুলসুম আক্তার শহরের কলেজে ভর্তি হলো। অল্পের জন্য বোর্ড ষ্ট্যান্ড হয়নি। শহরের চাকচিক্য তার খুব মনে ধরে যায়। সব কিছুই ভালো লেগে যায়। সে লক্ষ্য করলো, ক্লাসের অনেক ছেলে মেয়ের মধ্যে ভাব জমে গেছে এবং সে গ্রাম থেকে আসায় যেন অন্যদের থেকে পিছিয়ে আছে। সবার কত সুন্দর সুন্দর নাম! তাই বেশি দেরি না করে কুলসুম আক্তার তার নামটি পরিবর্তন করে ‘প্রেমী’ নামে সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠল। এরপর থেকেই প্রেমীর কাছে মনে হল, ক্লাসের সবাই তাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কেউ কেউ প্রেমের প্রস্তাবও দেওয়া শুরু করলো।

৩) মো. বরকত আলম এবং কুলসুম আক্তার কেউ কারো পরিচিত নয়। কিন্তু কিছু জায়গায় তাদের মধ্যে অনেক মিল ছিল। ছোটবেলা থেকেই তারা ডাক্তার হবার ইচ্ছা নিয়েই পড়ালেখা করতো। দুজনেই প্রাইমারি এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। তারা দুজনেই প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে খুব ভালো রেজাল্ট করে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। দুজনেই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। দুজনেই কলেজে ভর্তি হয়ে তাদের মূল উদ্দেশ্য ভুলে অন্য স্রোতে ভেসে বেড়াতে চেয়েছিল। সর্বশেষ মিল- উচ্চ মাধ্যমিকে দুজনেই অকৃতকার্য। বর্তমানে বরকত আলম একটি শাড়ির দোকানের কর্মচারী এবং কুলসুম আক্তার পরিপাটি গৃহিণী। দুজনেই এখন বাবা-মায়ের দেওয়া নামে পরিচিত।

সকল তের থেকে উনিশ বছর বয়সীদের উদ্দেশ্যে বলবো, আপনারা ভবিষ্যতে দশ জনের একজন হবার স্বপ্ন দেখুন। কেউ আপনাদের ভালোবাসা, শাসন দিয়ে সঠিক পথে নিয়ে আসবে, এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। স্বার্থপরের মত নিজের ভালো-মন্দ বুঝতে শিখুন। আমি দুরন্তপনার বিপক্ষে নই। কারণ এগুলোই জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি হয়ে থাকে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মূল কাজ লেখাপড়া, সেটা বাদ দিয়ে অন্যকিছু যেন মুখ্য না হয়ে ওঠে। একজন শিক্ষার্থী যখন তার লেখাপড়া থেকে সরে দাড়ায়, তখন সে শুধু নিজের ক্ষতিই করে না, একই সাথে পরিবার, সমাজ এবং দেশেরও ক্ষতি করে। শত প্রলোভন শত দিক থেকে আসবে। কিন্তু আমাদের কিশোররা লক্ষ্য থেকে কখনই বিচ্যুত হবে না, এই সংকল্প তাদের নিজেদের মধ্যেই তৈরী করতে হবে।

লেখক: রিয়াজুল হক, উপ-পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক

আজকের পত্রিকা/সিফাত