তেঁতুল ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে। ছবি: সংগৃহীত

তেঁতুলের পাতা, ছাল, ফলের শাঁস(কাঁচা ও পাকা), পাকা ফলের খোসা, বীজের খোসা সব কিছুই ব্যবহার হয়ে থাকে। তেঁতুলে শাঁসে বিদ্যমান টারটারিক এসিড থাকায় তেঁতুল টক স্বাদ হয়। তেঁতুলের আদি নিবাস হচ্ছে আফ্রিকার সাভানা অঞ্চল ও দক্ষিণ এশিয়া। ধারণা করা হয় সুদান থেকেই তেঁতুল বাংলাদেশের মাটিতে এসেছে।

তেঁতুল উপকারি দিকগুলি নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। বেশ কিছু গবেষণায় ওঠে এসেছে, তেঁতুল ওজন কমাতে বেশ কার্যকরী। এছাড়া মুখের ত্বক ভালো রাখতে এবং ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে তেঁতুল ভূমিকা রাখে।

তেঁতুলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’, ‘ই’, ‘এ’ বিদ্যমান। এছাড়া তেঁতুলে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ এবং ডায়াটারি ফাইবার যা স্বাস্থ্যের খুবই উপকারী। মন মেজাজ সতেজ রাখতে তেঁতুলে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট তো আছেই। এতসব স্বাস্থ্যকর উপাদান থাকাই বুঝতেই পারছেন তেঁতুল সর্বগুণসম্পন্ন একটি ফল। চলুন জেনে নিই, তেঁতুলের অবিশ্বাস্য কিছু উপকারিতা সম্পর্কে।

হার্টের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে

আপনার যদি ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়, তাহলে তেঁতুলের উপর আস্থা রাখতে পারেন। বেশি কিছু গপবেষণায় দেখা গেছে তেঁতুলে বিদ্যমান ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে এবং রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়।

ওজন হ্রাস করতে

তেঁতুল ফ্যাটি ফ্রি খাদ্য। তাই এটি ওজন হ্রাস করতে ভূমিকা রাখে। তবে টক এই ফলটি ওজন হ্রাসে একটু ব্যতিক্রম প্রক্রিয়া অবলম্বন করে আর সেটি হচ্ছে আপনার ক্ষিদে কমিয়ে দেয়া। তেঁতুল শরীরে ফাইবার বৃদ্ধি করে। তেঁতুলে থাকা হাইড্রক্সি সাইট্রিক অ্যাসিড আপনার ক্ষিদে কমিয়ে দেয়। এছাড়া শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতেও তেঁতুলের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

ক্ষত স্থান সারিয়ে তোলে

তেঁতুল গাছের পাতা অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে। এগুলো ক্ষত স্থান সারিয়ে তুলতে কার্যকরী। এছাড়া তেঁতুলে বিদ্যমান ভিটামিন সি শরীরে ইমিউনিটি সিস্টেম বৃদ্ধি করে থাকে।

কোষ্ঠকাঠিন্য সমাধানে

তেঁতুল কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা পেট ব্যথার সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখে। তেঁতুলের মধ্যে টারটারিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড এবং পটাশিয়ামের উৎস যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এদিকে তেঁতুল পাতা চিবিয়ে খেলে ডায়েরিয়ার সমস্যায় বেশ কাজে দেয়৷ এছাড়া তেঁতুল গাছের ছাল এবং শিকড় পেট ব্যথার ভালো চিকিৎসা।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/