সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের পাটানপাড়া গ্রামে শিপন আহমদ (২৮) নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর সন্ত্রাস চাঁদাবাজীতে এলাকার লোকজন অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন।

নদীতে বালি ব্যবসায়ীদেরকে জিম্মী করে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, পাটানপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীদেরকে চাঁদা দেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকী ও উঠতি বয়সের যুবকদেরকে ইয়াবা ক্রয়ে বাধ্য করা,জোরপূর্বক জমি ও বাড়ী দখলসহ তার বিরুদ্ধে অনেক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, শিপন পাটানপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজ মিয়া সরদারের পুত্র। সিরাজ মিয়া জীবদ্ধশায় তার ২য় স্ত্রী সামছুন নেহার বেগম ও তার সন্তানদেরকে গ্রামের জমিবাড়ী বিক্রয় করে সিলেটের খাদিমনগর এলাকায় বাসাবাড়ীর জায়গা ক্রয় করে তাদেরকে আলাদা করে সেখানেই রেখে যান। ফলে গত ৩০ বছর ধরে তার ২য় পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানরা সিলেটেই স্থায়ীভাবে বসবাস করে যাচ্ছে।

গত ৬ মাস যাবৎ সন্ত্রাসী শিপন তার মা ও ভাইদেরকে পাটানপাড়া গ্রামে নিয়ে এসে সৎভাই হুমায়ুন কবিরের বাড়ীতে উঠে। অসহায় হুমায়ূন কবীর সৎমা ও ভাইদেরকে অনেক কষ্ঠের মধ্যে দিয়ে উপযুক্ত ভরন পোষণ চালিয়ে যাওয়ার পরও প্রতারক শিপন একেবারে সিলেটে চলে যাবে তাদেরকে আর ডিস্টার্ব করবেনা মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়ে হুমায়ূন কবীরের কাছে ৩শত টাকার নন জুডিসিয়াল স্টাম্পে মা ভাইদের স্বাক্ষর দিয়ে নগদ ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।

কিছুদিন পর এ টাকা খরচ শেষে আবার নতুন করে গ্রামে গিয়ে নগদ টাকা চাঁদা দাবী করে। এর কিছুদিন আগে আপন চাচা মরহুম নিজাম উদ্দিনের স্ত্রীর একটা ছাগল চুরি করে নেয়। চাহিতো টাকা না দেয়ায় সৎভাই হুমায়ূনকে খুন করার চেষ্টা করে। অনুসন্ধানে জানা যায়,গত বছরের ৩রা সেপ্টেম্বর উক্ত শিপনকে পাটানপাড়া বাজারে সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ২৫ পীচ ইয়াবাসহ আটক করেন।

জেলা গোয়েন্দা শাখার এএসআই অনন্তপাল বাদী হয়ে ১৯৯০ ইং সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ (১) এর ৯ (ক) ধারায় উক্ত শিপনকে একমাত্র আসামী করে তাহিরপুর থানায় মামলা নং ৪ (জিআর ১৫৫/২০১৮) তাং ৪/৯/২০১৮ইং দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিজ্ঞ আদালতে শিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র নং ১৬৬ তাং ৪/১০/২০১৮ইং দাখিল করেন।

গত ২৩/১২/২০১৮ইং মামলাটিকে বিচারের জন্য চীপ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘদিন কারাগারে আটক থাকার একপর্যায়ে জামিনে বের হয়ে ইয়াবাসেবী শিপন আবার পুরনো দান্ধা শুরু করে দিয়েছে। পরিবারের লোকজন শিপনের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানা ও বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্পে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এরপরও পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছেনা। ফলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নীরবতায় বেপরোয়া চাঁদাবাজী সন্ত্রাস ও ইয়াবা ব্যবসায় লিপ্ত হয়ে এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে শিপন।

এলাকাবাসী অবিলম্বে ইয়াবাসেবী শিপনকে গ্রেফতারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আল-হেলাল/সুনামগঞ্জ