নন্দিত ও নিন্দিত এই লেখিকার ভিসার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে ভারত সরকার। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তাঁর নিজের লেখার স্বকীয়তার জন্যই সবসময়ই থেকেছেন আলোচিত। আশির দশকে উদীয়মান কবি হিসেবে সাহিত্য জগতে প্রবেশ করেন তসলিমা। নারীবাদী ও ধর্মীয় সমালোচনামূলক রচনার কারণে দেশ-বিদেশে নন্দিত ও নিন্দিত এই লেখিকার ভিসার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে ভারত সরকার।

২১ জুলাই রবিবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তসলিমা নাসরিনের এই ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছে। ২০০৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ভারতে বসবাসের মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়ে আসছেন সুইডেনের নাগরিকত্ব পাওয়া তসলিমা।

এর আগে গত সপ্তাহে ৫৬ বছর বয়সী এই লেখিকাকে তিন মাসের ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে দেয় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উল্লেখ করে ভিসার মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

টুইটে তসলিমা লিখেছিলেন, ‘সম্মানিত অমিত শাহ জি, আমার বসবাসের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কিন্তু আমি বিস্মিত হয়েছি, মাত্র তিন মাসের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আমি পাঁচ বছরের জন্য আবেদন করেছিলাম, কিন্তু আমাকে মাত্র এক বছরের জন্য দেয়া হয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং জি, ৫০ বছরের জন্য ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়া হবে বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন। ভারতই আমার একমাত্র বাড়ি। আমি নিশ্চিত, আপনি আমাকে উদ্ধার করবেন।’ এর পর পরই তসলিমার ভিসার মেয়াদ তিন মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করা হয়।

উল্লেখ্য, ধর্মবিরোধী লেখালেখির কারণে ক্রমাগত হত্যার হুমকির মুখে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়েন তসলিমা নাসরিন।

তখন থেকেই তিনি নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। গত দুই দশকের বিভিন্ন সময়ে তিনি ইউরোপ এবং আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বসবাস করেছেন। এর মাঝেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসের আগ্রহ প্রকাশ করেন; বিশেষ করে কলকাতায়। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, তসলিমা নাসরিন ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসেরও আবেদন করেছেন। তবে সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

আজকের পত্রিকা/সিফাত