“আমি ঝ’রে যাবো- তবু জীবন অগাধ/তোমারে রাখিবে ধ’রে সেদিন পৃথিবীর ‘পরে/আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে”- ‘নির্জন স্বাক্ষর’ নামের কবিতায় এভাবেই নিজের চলে যাওয়ার পরও তাঁর কবিতায় প্রেয়সীকে থেকে যাওয়ার কথা বলেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। আর এই কবিতার মাধ্যমেই শুধু তাঁর প্রেয়সীরা নয়, কবি নিজেও কালের পরিক্রমায় থেকে যাচ্ছেন কবিতাপ্রেমী মানুষের স্বপ্নের ভেতরে।

জীবনানন্দ মূলত কবিতাপ্রেমীদের কাছে ‘রুপসী বাংলার কবি’ হিসেবেই অধিক পরিচিত। ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার এই প্রেম ও প্রকৃতির কবির ৬৫তম তিরোধান দিবস। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর বিশ্ব কাব্যসাহিত্যের এই অসাধারণ মেধাবী বাঙালি কবি কলকাতায় এক ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী এই লেখক শুধু কবিই নন, একাধারে ছিলেন অধ্যাপক, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, উপন্যাসিক এবং গীতিকার। স্কুল জীবনেই তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে লেখালেখি শুরু করেন। তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ’ ১৯১৯ সালে ‘ব্রাক্ষ্মদী’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

জীবনানন্দের কবিতায় বাংলার রূপ, প্রকৃতি, মানুষের জীবনধারা, মাটি, তাদের কর্ম, দুঃখ-কষ্ট, বৃটিশ শাসনবিরোধী, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা উঠে এসেছে। কবিতা রচনায় ভিন্ন আঙ্গিকে, ভাষাগতভাবে পূরাণকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন তিনি। রবীন্দ্রত্তোর কবিতায় তাঁর মতো ভিন্নভাবে সৃষ্টিশীলতা আর কারো মধ্যে কাজ করেনি। মৃত্যুর আগে ততটা জনপ্রিয়তা না পেলেও মৃত্যুর পর তাঁর সৃষ্টিশীলতাই তাকে শ্রেষ্ঠ কবির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।

বাংলাদেশের বরিশালে ১৯৯৯ সালের ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া জীবনানন্দের পূর্বপুরুষ বিক্রমপুরে বসবাস করতেন। তাঁর মা কবি কুসুম কুমারী দাশ ও বাবা সত্যনানন্দ দাশ। পেশাগত জীবনে জীবনানন্দ প্রথম অধ্যাপনা শুরু করেন ১৯২২ সালে কলকাতা সিটি কলেজে। এরপর পর্যায়ক্রমে দিল্লির রামযশ কলেজ, ব্রজমোহন কলেজ, বাগেরহাট কলেজ, হাওড়া গার্লস কলেজ, খড়গপুর কলেজে অধ্যাপনা করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কলকাতার হাওড়া কলেজে অধ্যাপনা করছিলেন।

জীবনানন্দ দাশের প্রথম কবিতার বই ‘ঝরা পালক’ প্রকাশ পায় ১৯২৭ সালে। কলেজ জীবন থেকে তাঁর লেখা নানা পত্রিকায় প্রকাশ পেতে থাকে। কবির প্রকাশিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘ধূসর পান্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘সাতটি তারার তিমির’, ‘জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা’, ‘রুপসী বাংলা’, ‘বেলা অবেলা কালবেলার কবিতা’, ‘সুদর্শনা’, ‘আলো পৃথিবী’, ‘মনোবিহঙ্গম’, ‘প্রেম তোমার কথা ভেবে’ অন্যতম।

আজকের পত্রিকা/সিফাত