বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে হাতি-ঘোড়ার অবয়ব। ছবি : সংগৃহীত

বাংলা নববর্ষকে আরও আকর্ষণীয় ভাবে বরণ করে নেয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। বর্ষ বরণকে কেন্দ্র করে ১৯৮৫ সাল থেকে  আমাদের দেশের যশোরে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়ে আসছে। আর ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান লাভ করে। ইতিমধ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে সারাদেশে বিভিন্ন রকম আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন চলছে। প্রতিবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদেও শুরু হয়েছে এই প্রস্তুতি পর্ব।

বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি হাতি-ঘোড়ার দেহ কাগজ দিয়ে ঢেকে দিচ্ছে। কেউ কেউ সেই কাগজে আঠা লাগিয়ে দিচ্ছে। আবার কেউ রঙ মাখাচ্ছে। সবাই স্বতস্ফূর্ততা ও আনন্দ নিয়ে কাজ করছে। একটা ছেড়ে আরেকটা করছে। গত দুদিন চারুকলায় এমন চিত্রই দেখা গেছে। চারুকলার প্রবেশপথ পেরিয়েই চোখে পড়ে শিক্ষার্থীদের এই কর্মযজ্ঞ। কেউ রঙ-তুলি দিয়ে আলপনা বসাচ্ছে সরা ও মুখোশে। কেউ নতুন সরা বানাচ্ছে আবার কেউ সেই সরা বিক্রি করছে।

মস্তক তুলে ধরি অনন্ত আকাশে; রবিঠাকুরের এই স্লোগান ধারণ করেই এবার উদযাপিত হবে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য স্বীকৃতি পাওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। শোভাযাত্রার এবারের কাজের দায়িত্বে রয়েছেন চারুকলার ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

তারা জানান, এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার পুরোভাগে থাকবে মহিষ, পাখি ও ছানা, হাতি, মাছ ও বক, জাল ও জেলে, টেপা পুতুল, মা ও শিশু এবং গরুর আটটি শিল্পকাঠামো। এ ছাড়া রয়েছে পেইন্টিং, মাটির তৈরি সরা, মুখোশ, রাজা-রানির মুখোশ, সূর্য, ভট, লকেট ইত্যাদি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরা এবং ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদের প্রস্তুত করা মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে।

চারুকলায় ঘুরতে আসা রহমান রাজিব জানান, আমার মতো সাধারণ মানুষের মধ্যে নববর্ষের প্রথমদিনে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকে এমন অনেকেই আছেন। তাই বিকালে দেখতে এসেছি প্রস্তুতির কাজ কেমন চলছে। চারুকলার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নজরুল জানান, এবার নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আমি মঙ্গল শোভাযাত্রার কাজ করছি। এটা এক অন্যরকম অনুভূতি। প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। বিভিন্ন অশুভ শক্তির মুখোশ বানানোর দায়িত্ব পড়েছে আমার ওপর।

ইতিহাসবিদরা বলেন, ১৯৮৯ সালে ঢাকায় পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের শোভাযাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চারুকলা থেকে পাস করা শিল্পীদের সংগঠন চারুশিল্পী সংসদের সঙ্গে তৎকালীন ছাত্ররাও যুক্ত হয়। দেশের অগ্রসরমান পর্যটন শিল্পে মঙ্গল শোভাযাত্রার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি একটি বড় অর্জন।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/আ.স্ব/