ডোমারের একটি স্বাস্থ্যকন্দ্র

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১০টি স্বাস্থ্য উপ কেন্দ্রের একটিতেও ডাক্তার নেই। পাঁচটি কেন্দ্রে ডাক্তারতো দুরের কথা পিয়ন পর্যন্ত নেই। এজন্য ওই কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। আর চারটিতে উপ-সহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা ও একটির চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছে ওষুধ সরবরাহকারী (এম টি ফার্মাসিস্ট)।

খোলা পাঁচটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে একজনেই একের ভিতর সব হিসেবে জোড়াতালি দিয়ে দ্বায়সাড়া দিয়ে কাজ করছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। উপজেলা চিকিৎসা সেবা একেবারেই ভঙ্গুর অবস্থা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তর হতে জানা গেছে, প্রতিটি স্বাস্থ্য-উপ কেন্দ্রে একজন ডাক্তার, একজন উপ-সহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন ওষুধ সরবরাহকারী ও একজন এমএলএসএস পদ রয়েছে।

এরমধ্যে ডোমার সদর, গোমনাতি, বামুনিয়া ও সোনারায় স্বাস্থ-উপ কেন্দ্রে একজন উপ-সহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা ও চিলাহাটি কেন্দ্রে একজন ওষুধ সরবরাহকারী (এম টি ফার্মাসিস্ট) রয়েছে।

প্রতিটি কেন্দ্রে বাকি তিনটি করে পদ ফাঁকা রয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে একজনকেই ঝাড়ু দেওয়া থেকে চিকিৎসা সেবা সবই করতে হচ্ছে। আর বাকি মির্জাগঞ্জ, পাঙ্গা, হরিণচড়া, কেতকীবাড়ি ও বোড়াগাড়ি স্বাস্থ-উপ কেন্দ্রে চারটি পদই শুণ্য থাকায় কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। আর কেতকীবাড়ি ও বোড়াগাড়ি কেন্দ্র দু’টিতো শুধু কাগজে-কলজেই সীমাবদ্ধ। নেই কোন অবকাঠামো।

চিলাহাটি এলাকার বৃদ্ধা রোজিনা বেগম, মালেকা বেগম ও আব্দুস সালাম বলেন, আমরা অসুখ নিয়ে স্বাস্থ্য উপ কেন্দ্রে গিয়েও কোন চিকিৎসা পাই না।

মির্জাগঞ্জ এলাকার মো: বকুল হোসেন বলেন, আমাদের এলাকায় স্বাস্থ্য উপ কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। এতে কারো কোন রোগ হলে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য যেতে হয়। তবে সেখানেও ডাক্তার পাওয়া যায় না। এতে আমাদের এলাকার চিকিৎসা সেবার করুণ অবস্থা দেখা দিয়েছে।

আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রায়হান বারী জানান, উপ-সহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তারা সব ধরনের ওষুধ চিকিৎসা দিতে না পাওলেও ৪১ ধরনের ওষুধের তারা চিকিৎসা সেবা দিতে পারবে। তবে ওষধ সরবরাহকারীর কাজ শুধু ওষুধ সরবরাহ করা। সে কোন চিকিৎসা দিতে পারবে না।

উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেহেফুজ আলী জানান, ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুন্য পদ পুরনের জন্য প্রতি মাসে উদ্ধত্বন কতৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন পাঠানো হয়। কিন্তু কার্যকর কোন পদক্ষেন এখনো আমরা পাই নাই।

ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন/নীলফামারী