এম. এ. আর. শায়েল
সিনিয়র সাব এডিটর

ডোমারে ইউপি চেয়ারম্যানের বিচার ও বহিস্কারের দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী উপজেলার ডোমার-চিলাহাটি সড়কের নুপুরবাজার স্থানে এই কর্মসুচিতে এলাকার বয়স্কো নারীরাও অংশ নেয়। জোড়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও এলাকার কয়েক’শ নারী-পুরষ ইউপি চেয়ারম্যানের দুর্নীতি বন্ধে এবং বিভিন্ন অপকর্মের বিচার ও অপসারনের দাবি জানায়।

ডোমার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ জানান, হাসান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ। বিষয়টি জেলা প্রশাসক অবগত।

মানববন্ধন চলাকালিন বিক্ষোভ সমাবেশে জোড়াবাড়ি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রোমজান আলী, ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম, ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর মাহমুদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজকুমার রায়, ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন। উপস্থিত ছিলেন প্রতিটি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ।

বক্তারা অভিযোগ তুলে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ছেলে মমিনুল সহ সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাত, একই প্রকল্প দেখিয়ে বার বার বিল উত্তোলন, ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে মেম্বারদের স্বাক্ষর নেয়া, জন্মনিবন্ধন, জাতীয়তা সনদ ও ওয়ারিশ সনদ প্রদানে অতিরিক্ত ফি আদায়, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও বিভিন্ন অপরাধের কথা তুলে ধরে তার শাস্তি দাবি করেন ।

জোড়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, গত তিন দফায় জোড়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত হয় আবুল হাসান। অনেক তদবিরের পর ২০১৬ সালের ৫ মে প্রথমবার দলীয় প্রতিকে নির্বাচনে নৌকা পেয়েই চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন। এরপর হতে এ ইউনিয়নে শুরু হয় নতুন নিয়ম, টাকা ছাড়া মেলে না কোন সেবা। আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের কাছে লিখিত ভাবে অভিযোগ দিয়ে দাবি করেছি হাসান চেয়ারম্যানকে দল থেকে বহিস্কারের জন্য।

ইউপি সদস্য জাহিনুল ইসলাম জানান, সমন্বয় সভায় ফাঁকা রেজুলেশন খাতায় ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে ইচ্ছেমতো বিষয় উল্লেখ করে চেয়ারম্যানের ছেলে মমিনুল ইসলাম। আর মমিনুলেই ইউনিয়নের সকল কাজ পরিচালনা করে থাকে। আমরা ইউপি সদস্যরা কোন কিছুই করতে পারি না চেয়ারম্যান ও তার ছেলের সিন্ধান্তের বাইরে।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে মমিনুল ইসলামকে ইউনিয়নের সকল কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমিতো কিছু না। যারা আমার ও আমার বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে তারা কোন সুবিধা পায়না বলে মিথ্যে কথা বলছে।

জোড়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসান বলেন, আমি ছাত্র লীগ, যুবলীগ ও আওয়ামা লীগ করে জীবন শেষ করে দিলাম। আমি এই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার চেয়ারম্যান। আমি ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। আমি কোন অনিয়ম দুর্নীতি করিনা।

জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী হাসান চেয়ারম্যানের বিষয়ে জানান, জোড়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের বিষয়টি তদন্ত পর্যায়ে আছে। তদন্তে প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন/নীলফামারী