যার আত্মনিয়ন্ত্রণসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব রয়েছে সে পরচর্চা করে সময় নষ্ট করে না। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার বিখ্যাত লেখক, অধ্যাপক এবং মনোবিজ্ঞানী ডেল কার্নেগি মানুষের আচার-আচরণ, মনস্তত্ত্ব নিয়ে বিশদ গবেষণা করেছেন। তিনি লক্ষ্য করে দেখেছেন, আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের ভবিষ্যৎ সফলতা কিংবা ব্যর্থতা, হতাশা।

এক গবেষণায় দেখা যায়, অতীতের সেই মানুষগুলোই অধিক সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে পেরেছেন, যারা ঝুঁকি মোকাবেলা করতে সবসময় প্রস্তুত থাকতেন, লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য নিজের সিদ্ধান্ত দলের উপর চাপিয়ে দিতেন না, বরং সবার উপর বিশ্বাস রাখতেন। এমনকি স্বার্থপর, আত্মভোলা মানুষের চেয়ে সেই মানুষেরা বেশি উন্নতি করেন, যারা তার চারপাশের মানুষের আবেগের মূল্য দেন, তাদের বোঝার চেষ্টা করেন এবং ভালো সম্পর্ক বজায় রাখেন। সফল হওয়া নিয়ে ডেল কার্নেগি আমাদের অভ্যাসের ৩টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন।

মানুষকে বুঝতে এবং ক্ষমা করতে পারা

ডেল কার্নেগি মনে করেন, বোকারাই শুধুমাত্র অভিযোগ, নিন্দা এবং সমালোচনা করে সময় নষ্ট করে। যার দৃঢ়, শক্তিশালী ও আত্মনিয়ন্ত্রণসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব রয়েছে, সে এসব নিয়ে সময় নষ্ট করে না। সে অন্যকে বুঝতে পারে এবং ভুলগুলোকে ঠাণ্ডা মেজাজে বিচার বিবেচনার মাধ্যমে ক্ষমা করতে পারে। এরকম মানসিকতার ব্যক্তি কর্মক্ষেত্রেও সকলের চাহিদা বুঝে কাজ করতে সক্ষম হয়। তা কে কোন কাজ করতে দিলে হতাশ হবেন না।

যোগ্যতার মূল্যায়ন করুন

সফল মানুষেরা তাদের কর্মীদের ভালো কাজের মন খুলে প্রশংসা করে থাকে। তাদের যোগ্যতার যথার্থ মূল্যায়ন করে। কার্নেগি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, যোগ্যতার মূল্যায়ন মানুষের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

সহানুভূতিশীল হোন  

মানুষকে প্রভাবিত করার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় হচ্ছে তাদের জীবনের নানা ধরনের চাওয়া-পাওয়াগুলো নিয়ে কথা বলা এবং তাদের সঠিক পথ দেখানো। কার্নেগি এই বিষয়ে একটি উদ্ধৃতি ব্যবহার করে বলেন, সফলতার যদি কোনো গোপন রহস্য থেকে থাকে তা হলো, অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারা এবং তার সমস্যাগুলোকে তার চোখ দিয়ে তার মতো করেই দেখতে পারা, যেমনটা আমরা নিজের সমস্যাকে দেখতে পাই।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/সিফাত