লক্ষ্মীপুরের ডিসি
লক্ষ্মীপুরের ডিসি

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরমনসা গ্রামে এ এইচ এগ্রো পার্ক লিমিটেডের ২ একর সাড়ে পঞ্চান্ন শতাংশ জমির নামজারি ও জমা খারিজের জন্য ৬ বছর আগে আবেদন করা হয়। কিন্তু ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় এটি আটকে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এডভোকেট মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। সম্প্রতি দ্বিতীয়বার একই আবেদন করেও কোন সুফল আসেনি।

কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে হয়রানির ঘটনায় মনিরুল ইসলাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক, এনডিসি, আরডিসি, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগটি স্থানীয় সরকারের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালককে তদন্তের জন্য বলা হয়। এর প্রেক্ষিতে বুধবার (২১ আগস্ট) স্থানীয় সরকারের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তী লক্ষ্মীপুরে তদন্তে আসেন। তিনি সকাল ১১ টা থেকে একটা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগকারী, জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন। এসময় তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে লিখিত বক্তব্য নেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামে এ এইচ এগ্রো পার্ক লিমিটেড নামের একটি কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে ২০১২ সালের ২৯ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির ২ একর সাড়ে প ান্ন শতাংশ জমির নামজারী ও জমা খারিজ করার জন্য আবেদন করা হয়। তখন কাজটি করতে জেলা প্রশাসকের তহবিলের জন্য ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন উচ্চমান সহকারী আবদুল জলিল।

টাকা না দেয়ায় নামজারি ও জমা খারিজের বিষয়টি নিয়ে আরডিসি, এনডিসি, জেলা প্রশাসক ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে নিয়মিত যোগাযোগ করতে থাকেন কোম্পানির প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম। এরপরও ৬ বছরেও তা সম্ভব হয়নি।

সবশেষ চলতি বছরের ২১ মার্চ নামজারিও জমা খারিজের জন্য পুনরায় জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালের কাছে আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রায় ৫ মাস হয়ে গেলেও তা সম্পন্ন হয়নি। কারণ জানতে মোবাইলফোন সেটে কল করলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে অশোচনীয় আচরণ করেন ডিসি। এনিয়ে ওই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

এদিকে ভূক্তভোগীর হয়রানির তদন্তের খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে ডিসির কার্যালয়ে জড়ো হয়। এসময় ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল উপস্থিত সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি জেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। আমার বিরুদ্ধে কেন নিউজ করবেন? আপনারা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করতে পারবেন না। আমার বিরুদ্ধে তদন্ত আসলে সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তদন্ত আসলেই যে আপনাদের নিউজ করতে হবে, তার কোন মানে নেই’।

ডিসি আরও বলেন, আপনারা কেউ ভূক্তভোগীর বক্তব্য নিতে পারবেন না। ওই ব্যাক্তি চলে গেলে আপনারা আমার কক্ষ থেকে বের হবেন। উনি চলে গেলে আমি আপনাদের বক্তব্য দেবো। বাইরেও আপনারা অভিযোগকারীর বক্তব্য নিতে পারবেন না। যদি বক্তব্য নিতে হয় অভিযোগকারী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানাবে। আর আমার কার্যালয় এলাকায় আপনারা তার বক্তব্য নিতে পারবেন না। আর আমি চাইছি না আপনারা তার বক্তব্য নেন। আপনারা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করবেন এটাও আমরা চাইছি না।

মোঃ সোহেল রানা/লক্ষ্মীপুর