প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন।ছবি সংগৃহীত

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ডিভোর্সি নারীর কাবিনের লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। প্রাপ্য টাকা চাওয়ায় উল্টো হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। ২০ মে সোমবার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী চৌগাছা উপজেলা শহরের ডাকবাংলো পাড়ার রুহুল আমিনের মেয়ে উম্মে তাওহিদা আমিন।

লিখিত বক্তব্যে উম্মে তাওহিদা বলেন, ২০১৩ সালের ১৫ মার্চ যশোর সদর উপজেলার নতুনহাট তেঘরি গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে সিঙ্গাপুর প্রবাসী শাহিদুল ইসলামের সাথে আমার বিয়ে হয়। স্বামী দেশে ফেরার পর নানামুখী নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে গত ১৩ এপ্রিল আমাদের ডিভোর্স হয়। আমাদের ডিভোর্স প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়েন চৌগাছা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সিদ্দিকুর রহমান।

তিনি শহিদুল ইসলাম ও তার পরিবারের সাথে যোগসাজস করে কাবিনের এক লাখ ১০ হাজার নিজে গ্রহণ করেন। সেই টাকা আমার কিংবা আমার পরিবারের হাতে দেয়নি। এখন আমাকে শুধুমাত্র ১০ হাজার টাকা দিতে চাচ্ছে। একজন নারীর বৈধ পাওনা আদায় করে, সেই টাকা নির্লজ্জভাবে পকেটস্থ করেছেন সিদ্দিকুর রহমান। এর আগেও এলাকায় শালিসের নামে অনেকের ডিভোর্সের সময় কাবিনের টাকা আদায় করে আত্মসাত করেছে সাবেক কাউন্সিলর সিদ্দিকুর রহমান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা চাইলে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আপনাদের মাধ্যমে দ্রুত পাওনা পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উম্মেল তাওহিদা আমিনের মা রুবিনা খাতুন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সাবেক কাউন্সিলর সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মেয়েটির ভগ্নিপতি আমাকে অনুরোধ করেছিল ডিভোর্স সম্পন্ন করিয়ে দিতে। দুই পক্ষকে নিয়ে ডিভোর্স হয়েছে। কাবিনের টাকা ছেলে পক্ষ আমার হাতে দিয়েছিল সত্যি। কিন্তু আমি সেই টাকা মেয়েটির ভগ্নিপতির হাতে দিয়ে দিয়েছি। এখন তারা আমার বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ করছে। যা মিথ্যা। মেয়েটির ইজ্জতের টাকা আত্মসাত করবো, সেই রকম মানুষ আমি না। আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি দাবি করেন, ছেলে পক্ষ ৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা পাবে, চাপ দেয়ায় মেয়েরা এই সব অভিযোগ করে বেড়াচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে ওই নারীর ডিভোর্স স্বামী শহিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত ফোনে একাধিকবার কল করলেও রিসিভ করা হয়নি।

আজকের পত্রিকা/এইচ আর তুহিন/যশোর/রাফাত/শায়েল