মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

ব্র্যাক ব্যাংক এর অর্ধবার্ষিক আর্নিং ডিসক্লোজার প্রোগ্রাম। ছবি: ব্র্যাক

২০১৯ সালের অর্ধবার্ষিক আর্নিং ডিসক্লোজার প্রোগ্রামের আয়োজন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক।

উল্লেখযোগ্য অগ্রগ্রতি (সলো ভিত্তিতে) :

# গ্রাহক ডিপোজিট গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ২০,৭৩৭ কোটি টাকা থেকে ২৪,৪১৭ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
# গ্রাহক লোন গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ২১,৭২০ কোটি টাকা থেকে ২৫,১২৪ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
# আয় (রেভিনিউ) গত বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৯১৯ কোটি টাকা থেকে ১,০৫১ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
# এনপিএল ৩.৩ শতাংশ থেকে ৩.৭ শতাংশ হয়েছে
# কর পূর্ববর্তী মুনাফা ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৩৬৭ কোটি টাকা থেকে ৪২৭ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে
# কর পরবর্তী মুনাফা ০.৩৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ২৫৫ কোটি টাকা থেকে ২৫৬ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে
# ক্যাপিট্যাল অ্যাসেট রেসিও ১৩.১৯ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৫.০৫ শতাংশে উন্নিত হয়েছে
# জুন ২০১৮ এ ইপিএস ২.০৭টাকা থেকে বেড়ে জুন ২০১৯ এ ২.০৮ টাকা হয়েছে

কনসলিডেটেড ভিত্তিতে:

# গ্রাহক ডিপোজিট গত বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ২৩,১৯২ কোটি টাকা থেকে ২৭,০১৯ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে ।
# গ্রাহক লোন গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ২১,৭৮১ কোটি টাকা থেকে ২৫,১৯৯ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে ।
# আয় (রেভিনিউ) গত বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ১,২৫৭ কোটি টাকা থেকে ১,৪৪৯ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে ।
# কর পূর্ববর্তী মুনাফা ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৪২৪ কোটি টাকা থেকে ৪৩৫ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে ।
# কর পরবর্তী মুনাফা ১২ শতাংশ কমে ২৮৭ কোটি টাকা থেকে ২৫৩ কোটি টাকা হয়েছে ।
# ক্যাপিট্যাল অ্যাসেট রেসিও ১৪.৫৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৬.৮১ শতাংশে উন্নিত হয়েছে ।
# জুন ২০১৮ এ ইপিএস ২.১৭টাকা থেকে জুন ২০১৯ এ ২.০৫ টাকা হয়েছে।

ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, যার রয়েছে বাংলাদেশের ব্যাকিং খাতের সবচেয়ে বৃহৎ মার্কেট ক্যাপিট্যালাইজেশন, এর প্রবৃদ্ধির গতিশীলতা বজায় রেখেছে। ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে গ্রাহক লোন ও ডিপোজিট ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রির গড়ের চেয়ে অনেক বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

সুশাসন, গ্রাহক অ্যাকুইজিশন স্ট্র্যাটেজি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিসমূহ এনপিএল (খেলাপী ঋণ) কমাতে সাহায্য করেছে। জুন, ২০১৯ এ ব্র্যাক ব্যাংক এর এনপিএল ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রির গড়ের তিন ভাগের এক ভাগ।

ব্র্যাক ব্যাংক ডিজিটাইজেশন প্রসেস অগ্রাধিকার দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে। কোর ব্যাংকিং সিস্টেম, ওরাকল ইআরপি, ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড সিস্টেম, কল সেন্টার সিস্টেম আপগ্রেড করা হয়েছে। কল সেন্টার নতুন ও বড় পরিসরে স্থানান্তর করা হয়েছে। ২৪ ঘন্টার ডিজিটাল এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই ১০০ এর বেশি এজেন্ট আউটলেট চালু করা হয়েছে।

২৯ জুলাই ২০১৯ ঢাকায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়। স্থানীয় ও বিদেশী বিনিয়োাগ বিশ্লেষক এবং পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা এই অনুষ্ঠানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি ইন্টারনেটে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সেলিম আর. এফ. হোসেন এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিআর চৌধুরী আখতার আসিফব্যাংকের আর্থিক ফলাফল উপস্থাপন করেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

এছাড়া, কর্পোরেট ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান তারেক রিফাত উল্লাহ খান, এসএমই ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান সৈয়দ আব্দুল মোমেন, ট্রেজারি ও এফআইএস বিভাগের প্রধান শাহীন ইকবাল এবং ভারপ্রাপ্ত চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার ইয়াসির আরিফিন অনুষ্ঠানে বিজনেস সম্পর্কে উপস্থাপনা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালনা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব সেলিম আর. এফ. হোসেন বলেন, ব্র্যাক ব্যাংক ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে গ্রাহক লোন ও ডিপোজিটে ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রির গড়ের চেয়ে অনেক বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতি সত্ত্বেওএসএমই ও রিটেইল সেগমেন্টের অ্যাসেট প্রবৃদ্ধি অর্জন অব্যাহত রয়েছে। কর্পোরেট সেগমেন্টে ঝুঁকি প্রশমন প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে তারল্য বৃদ্ধি করা ও মানি মার্কেটের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করা, যা আমরা অর্জন করতে পেরেছি। ডিজিটাইলেশন ট্রানফরমেশন স্ট্র্যাটেজিতে আরও গতিশীলতা আনা হয়েছে। নতুন ইনোভেশন স্টুডিও চালু করা হয়েছে এবং অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াধীন আছে। ব্যাংকটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। আমরামিডিয়ামে টার্মে লক্ষ্যণীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করছে।

আজকের পত্রিকা/এমইউ