এম. এ. আর. শায়েল
সিনিয়র সাব এডিটর

বুকে প্ল্যাকার্ড নিয়ে এক যুবক। ছবি : ফেসবুক।

দেশে লাখ লাখ চাকরিপ্রার্থী রয়েছেন। যাঁরা প্রতিদিন চাকরির আবেদন করার জন্য ছবি ও কাগজপত্র সত্যায়িত করতে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের পেছনে ছোটেন এবং শিকার হন সীমাহীন দুর্ভোগের।

শুধু চাকরিই নয়, দেশে শিশু থেকে বয়স্ক পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণির-পেশার প্রায় সব নাগরিককে পড়াশোনা, পাসপোর্ট আবেদন, বিভিন্ন যোগ্যতার সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র বাধ্যতামূলকভাবে সত্যায়িত করতে হয়।

সরকার নির্ধারিত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার কাছে সত্যায়িত করতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আবার অনেকেই এসব ঝামেলা এড়াতে জালিয়াতির আশ্রয় নেন। অনেকেই ভুয়া সত্যায়িত সিলমোহর বানিয়ে জাল সই দিয়ে নিজের সত্যায়ন নিজেই করেন, যদিও সব কাগজপত্র আসল। তাই অযাচিত জনবিড়ম্বনা থেকে রেহাই পেতে এই মান্ধাতা আমলের পদ্ধতি বাতিলের দাবি উঠেছে।

বুকে প্ল্যাকার্ড নিয়ে এক যুবক। ছবি : ফেসবুক।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ দাবি উঠে।

জানা যায়, উন্নয়নশীল দেশে অধিকাংশ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায় না আর যারা পায় তারা অনেকেই হয়তোবা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদবি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।

প্রথম শ্রেণির চাকরিজীবীরা সবসময় ব্যস্ত থাকেন, নানা অজুহাত দেখিয়ে সত্যায়িত করতে চান না বরং বিরক্তবোধ করেন। তারপর আর একটি সমস্যা হচ্ছে, যদিও করে দেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন।

শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে তাদের কি ভাবা উচিত নয় যে, আমাদের সময়েরও মূল্য আছে? যাই হোক, এই সত্যায়নটা কেন লাগবে? আমাদের সনদগুলোর প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করতে- তাই তো? এই সত্যতা যাচাই করতে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে যে পদক্ষেপ রয়েছে সেটাই যথেষ্ট।

যদি কোনো প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়, তবে তার সনদগুলোর ফটোকপির রোল, রেজি. বা আইডি নং দিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন বোর্ড বা প্রতিষ্ঠানের সাইট থেকে সহজেই যাচাই করা সম্ভব।

সবশেষে নিয়োগের পর ভাইবা বোর্ড সব কাগজপত্র যাচাই করেই নিয়োগ দেয়। কারণ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে পৃথিবী হাতের মুঠোর মধ্যে, ভুয়া কিছু দিয়ে জীবন পার করা সম্ভব নয়।

যদি কর্তৃপক্ষ এই চিরাচরিত পদ্ধতি পরিবর্তন করে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করার দাবি উঠেছে।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস