ডিজিটাল আইনে আটক হয়েছেন কবি হেনরি স্বপন। ছবি : সংগৃহীত

ডিজিটাল আইনে গ্রেফতার হয়েছেন কবি হেনরি স্বপন। দীর্ঘদিন ধরে তার লেখনির মাধ্যমে সমাজের নানান অসঙ্গতি, অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন তিনি। তার লেখনির সাহসিকতায় তিনি সম্প্রতি দেশব্যাপী বেশ আলোচনায় আসেন। এরপর থেকেই ঘনিষ্টজনদের একটি মহল বিরোধিতা করে আসছিল তার।

নিজ (খ্রীস্টান) সম্প্রদায়ের সঙ্গে হেনরি স্বপনের বিরোধ বেশ অনেকদিনের। এর মধ্যে বরিশাল ক্যাথলিক ডাইওসিসের বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদারকে নিয়ে ফেসবুকে লেখার কারণে তাকে আটক করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়। ১৪ মে সকালে বরিশাল কোতয়ালী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩১, ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে। এরপরই কবি হেনরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ, বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কোতয়ালী থানার এএসআই মাসুম বিল্লাহ। তাকে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানা যায় পুলিশের বরাত থেকে।

এদিকে আদালতের হাজতখানায় বসে হেনরী স্বপন জানান, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ২টায় কোতোয়ালী মডেল থানার উপ পরিদর্শক আল মামুন, হাসান ও রাকিবসহ চারজন পুলিশ কর্মকর্তা সাদা পোশাকে তার বাসায় যান। ওই চার পুলিশ কর্মকর্তা তাকে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলামের বরাত দিয়ে জানান ‘স্যার আপনাকে যেতে বলেছেন’। এরপরই সাদা পোশাকে থাকা ওই চার পুলিশ মোটরসাইকেলে করে হেনরী স্বপনকে থানায় না নিয়ে সরাসরি নিয়ে যান মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের হাজতখানায়। বিকাল ৫টায় আদালতের নির্দেশে হেনরী স্বপনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতের নির্দেশে হেনরী স্বপনকে কারাগারে পাঠানো হয়। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে ১১ মে শনিবার রাতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দুর্বৃত্ত কবির বরিশালের বাসভবনে গিয়ে এ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ সময় তারা কবিকে বরিশাল ত্যাগেরও হুমকি দিয়েছিল। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন তিনি। সংবাদ মাধ্যমগুলো তথ্যসূত্রে জানা যায়, শনিবার নগরীর নবগ্রাম রোডের খ্রিস্টান কলোনিতে অবস্থিত বাসার কক্ষে বসে লেখালেখি করছিলেন হেনরী। এ সময় আনুমানিক রাত আড়াইটার দিকে বাসার জানালায় দাড়িয়ে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দেয়।

পাশাপাশি স্বগোত্রীয় (খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী) লোকদের বিরুদ্ধে লেখালেখি বন্ধের নির্দেশ দেয় তারা। এর ব্যতিক্রম ঘটলে তাকে হত্যা করা হবে- এমন হুমকির অভিযোগ করেছেন হেনরী। এ সময় কবি চিৎকার শুরু করলে ওই দুই দুর্বৃত্ত সেখান থেকে দ্রুতই পালিয়ে যায়।

হেনরী স্বপন দীর্ঘদিন তার লেখনীর মাধ্যমে সমাজের নানা অসঙ্গতি, অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন। যেখানে বাদ পড়েনি স্বসম্প্রদায়, স্নেহভাজন, আস্থাভাজনসহ কেউই। তার এই সাহসিকতায় তিনি সম্প্রতি গোটা দেশব্যাপী বেশ আলোচনায় আসেন। এরপর থেকেই ঘনিষ্টজনদের একটি মহল তার বিরোধিতা করে আসছিল। বিষয়টি লিখিতভাবে পুলিশ প্রশাসনকে জানানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান হেনরী।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে বরিশালের মুক্তমনা ছয়জনকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয়। যে ঘটনায় ৬ জনের পক্ষে হেনরী স্বপন বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।

আজকের পত্রিকা/সিফাত