সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ছবি : সংগৃহীত

‘ডিআইজি মিজান নিশ্চয়ই অপরাধ ঢাকতে ঘুষ দিয়েছেন। তার আগের অপরাধের বিচার চলছে। নতুন করে যদি ঘুষ দেওয়ার মতো অপরাধ করে থাকেন তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় জড়িত ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিষয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম দেশেই আছেন। বাইরে পালিয়ে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

১২ জুন বুধবার দুপুরে রাজধানীর বকশি বাজারের কারা অধিদফতরের কারাকনভেনশন সেন্টারে দিনব্যাপী ‘উদ্ভাবনী মেলা ও শোকেসিং ২০১৯’ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমে দুদক কর্মকর্তা খন্দকার এনামুল বাছির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন- এমন অভিযোগের পক্ষে ঘুষ লেনদেনের অডিও কথোপকথন প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমান।

দ্বিতীয় বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আছে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে প্রভাব খাটিয়ে গ্রেফতার এবং এক সংবাদ পাঠিকা ও এক নারী রিপোর্টারকে যৌন হয়রানির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশের নিয়োগ, বদলিতেও একসময় ভূমিকা রাখতেন তিনি। গ্রেফতার ও মামলা দিয়ে হয়রানি করে টাকা আদায়ের অভিযোগও আছে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

ঢাকার জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন ডিআইজি মিজান। সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনারও ছিলেন তিনি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ছিলেন। পরে সেখান থেকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

‘নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ওসি মোয়াজ্জেমকে পুলিশ এখনও কেনো গ্রেফতার করতে পারেনি?’- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘যখনই কোনো দোষী আমাদের কাছে চিহ্নিত হয়, সঙ্গে সঙ্গে তার পালিয়ে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তেমনি ওসি মোয়াজ্জেমের ক্ষেত্রেও হয়েছে। তার পালিয়ে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছি। সে এখন দেশের ভেতরেই আছে এবং যেকোনো সময় গ্রেফতার হবে। ’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল গত ২৭ মে পরোয়ানা জারি করেন। ৩১ মে পরোয়ানার চিঠি ফেনীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পৌঁছায়। কিন্তু পুলিশ সুপার কাজী মনির-উজ-জামান বারবার বিষয়টি অস্বীকার করতে থাকেন। একপর্যায়ে ৩ জুন রাতে পরোয়ানা হাতে পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। এর দুইদিন পর বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে পরোয়ানা রংপুর রেঞ্জে পাঠানো হয়। এখন আবার রংপুর রেঞ্জ বলছে, কাজটি বিধি মোতাবেক হয়নি।

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এর দিন দশেক আগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সে সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওই দিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরোয়ানা জারির দুইদিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।

‘চট্টগ্রাম কারাগারে খুন হওয়া অমিত মুহুরির হত্যাকাণ্ড তদন্তে গাফলতি আছে’- পরিবারের এমন অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্তে কোনো গাফলতি নেই। এঘটনায় ডিবি এবং পুলিশ তদন্ত করছে। জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেউ কিন্তু আইনের বাইরে নয়। জড়িতরা কেউ পার পাবে না।

আজকের পত্রিকা/কেএফ