ডিআইজি মিজান।

নারী কেলেঙ্কারী ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানে পুলিশের বিতর্কিত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ। ১০ জুলাই বুধবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ ডিআইজি মিজানকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদক পরিচালক ফানাফিল্লাহকে অনুমতি দেন।

দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর এক সপ্তাহ আগে হাই কোর্টের নির্দেশে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিজানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি মামলাও দুদক করে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরপর ঘুষ লেনদেনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে ডিআইজি মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন দুদকের এই সংক্রান্ত অনুসন্ধান দলের নেতা ফানাফিল্লাহ।

সেই আবেদনে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদক কর্মকর্তাকে অনুমতি দেন। আসন্ন ১৫ জুলাই ডিআইজি মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়ে ওই আদেশের অনুলিপি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপারকে পাঠানোর নির্দেশও বিচারক দিয়েছেন বলে জানান দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।

এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠায় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মিজানকে।

এর ৪ মাস পর তার সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। এক হাত ঘুরে সেই অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান কমিশনের পরিচালক এনামুল বাছির। সেই অনুসন্ধান চলার মধ্যেই ডিআইজি মিজান গত ৮ জুন দাবি করেন, তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা বাছির। এর সপক্ষে তাদের কথপোকথনের কয়েকটি অডিও ক্লিপও দেন তিনি।

এরপর তুমুল আলোচনার মধ্যে দুদক সাময়িক বরখাস্ত করে এনামুল বাছিরকে, অন্যদিকে ডিআইজি মিজানও বরখাস্ত হন।

চলতি বছরের ১৩ জুন ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তদন্তে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই অনুসন্ধানে ৩ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়। পরিচালক ফানাফিল্লাহ’র নেতৃত্বাধীন এই দলের অন্য দুই সদস্য হলেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার ও সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন।

এর মধ্যেই অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ২৪ জুন দুদকের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ডিআইজি মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্মা, ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানকেও আসামি করা হয়।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ৩ কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।

এরপর ১ জুলাই ডিআইজি মিজান ও তার ভাগ্নে হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। হাই কোর্ট দু’জনের জামিন আবেদন নাকচ করে ডিআইজি মিজানকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তার ভাগ্নে এসআই মাহমুদুল হাসান ৪ জুলাই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকেও কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।

আজকের পত্রিকা/কেএফ