ডায়াবেটিস রোগ নিয়ে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা। ছবি: সংগৃহীত

ডায়াবেটিস একটি ভয়াবহ রোগ। এই রোগকে কাঠে ঘুণ ধরার সাথে তুলনা করা যায়। কাঠে ঘুণ ধরলে যেমন কাঠ নষ্ট হয়ে যায় ঠিক তেমন ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে শরীর ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের ফলে আমাদের শরীরের অন্যান্য রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে সৌভাগ্যজনক ভাবে নিয়মিত ওষুধ সেবন, শরীরচর্চা এবং নিয়ম মেনে খাদ্য গ্রহণ করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। রক্তে সুগার বৃদ্ধির ফল যেসব অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় তা নিয়ে আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে, ডায়াবেটিস নিয়ে রয়েছে আমাদের নানাবিধ কুসংস্কার এবং ভ্রান্ত ধারণা। এসব ভ্রান্ত ধারণার চর্চা রোগীর জীবনকে আরও বেশি জীবনবিমুখ করে তোলে। চলুন জেনে নেই, ডায়াবেটিস রোগ নিয়ে কয়েকটি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা সম্পর্কে ।

শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণে বাধা

অনেকের ধারণা ডায়াবেটিস রোগ ধরা পড়লে শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল! ডায়েটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্টার্চ বা শর্করা জাতীয় খাবার। তাই খাদ্য তালিকা থেকে কখনোই আপনি শর্করা জাতীয় খাবার বাদ দিবেন না। প্রয়োজনে কম পরিমাণ শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।

মিষ্টি খাওয়া যাবে না

ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে মিষ্টি খেতে পারবে।

অধিক মিষ্টি খাওয়া মূলত ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য যেমন ক্ষতিকর তেমন অন্যান্য মানুষদের ক্ষেত্রেও ক্ষতিকর। ডায়াবেটিস রোগীরা একেবারেই মিষ্টি খেতে পারবে না, এই ধারণা ভুল। নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে মিষ্টি খেলে তেমন কোনো সমস্যা হয় না বলেই চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

রক্তদান করতে পারবে না

যারা নিয়মিত ইনসুলিন গ্রহণ করে না তারা রক্তদান করতে পারবে। ছবি: সংগৃহীত

ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়ে প্রচলিত আরেকটি ভুল ধারণা হচ্ছে, এরা কখনো রক্ত দিতে পারবে না। কিন্তু সত্যিটা হচ্ছে, ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে যাদের নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয়, শুধু তারাই রক্তদান করতে পারবেন না। বাকিদের রক্ত দিতে কোনো বাধা নেই।

ইনসুলিন নেয়া মানেই রোগী অনিয়ম করছে

টাইপ ২ ডায়াবেটিসে (T2D) আক্রান্ত রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা খুব দ্রুত হ্রাস পায়। ছবি: সংগৃহীত

অনেকের ধারণা, ডাক্তার ডায়াবেটিসের রোগীকে ইনসুলিন নিতে বলেছেন মানেই রোগী জীবন যাপনে খুব অনিয়ম করছে। মূলত এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল! কারণ, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে (T2D) আক্রান্ত রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা খুব দ্রুত হ্রাস পায়। যার ফলে নিয়মিত ওষুধ সেবন করা সত্ত্বেও একটা সময়ের পর ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।