বোতলজাত করে রাখা নবজাতকের মরদেহ। ছবি : সংগৃহীত

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাস্টবিন থেকে অপরিনত বয়সের ৩৩টি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাত ৯টার দিকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. খুরশিদ জাহান এবং ওই বিভাগের ওয়ার্ড ইনচার্জ নার্স জোসনা বেগমকে সাময়িক বরখাস্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণাল‌য়ে আবেদন করা হ‌বে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল প‌রিচালক ডা. এসএম বাকির হোসেন।

তিনি জানান, আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকা‌লে তা‌দের‌কে সাময়িক বরখাস্তের জন্য মন্ত্রণাল‌য়ে আবেদন জানা‌নো হ‌বে।

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মোদাচ্ছের আলী জানান, রাতে সিটি কর্পোরেশনের ময়লা পরিচ্ছন্নকারীরা খবর দিলে ডাস্টবিনে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও কিছু জানা যায়নি।

সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মী রিয়াজুল ইসলাম জানান, ময়লা পরিষ্কার করতে এসে এখানে অনেক ভ্রুণ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি হাসপাতালের লোকজনকে জানালে তারা এখানে এসে মাটি খুড়ে চাপা দেয়ার চেষ্টা করে।

রাত পৌনে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহগুলোর সুরতহাল শুরু করে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতালে জন্ম নেয়া অপরিণত শিশুর মৃতদেহ কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য মেডিসিনের মাধ্যমে বোতলে ভরে রাখা হয়। ১৫/২০ বছর পূর্বে অপরিণত এসব শিশুর মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হয়। ওই বোতলগুলো গাইনি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত ছিল। তাছাড়া বোতলে থাকা মেডিসিনের মেয়াদও শেষপর্যায়ে থাকায় তা মাটিচাপা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ওয়ার্ড-বয়রা কোনো কিছু না বলে হাসপাতালের পেছনে ডাস্টবিনে স্তূপকারে ফেলে রাখে। পরবর্তীতে টোকাইরা সেখান থেকে অপরিণত শিশুর মৃতদেহ ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বের করে নিয়ে যায়।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, এই ভ্রুণগুলো ২৫/৩০ বছর আগের। এগুলো শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ছিল। এগুলো আর গবেষণার উপযুক্ত না থাকায় তা ডাস্টবিনে ফেলা হয়েছে। যেটা উচিৎ না। এর দায়ভার আমিও এড়াতে পারি না। এই বিষয়টিতে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান খুরশীদ জাহান বেগম পুরোপুরী দায়ী। তাই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচারের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের ওসি নুরুল ইসলাম জানান, এখানে এসে ভ্রুণগুলো ডাস্টবিনে দেখতে পাই। এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তবে আমরা বিষয়টি তদন্ত চলছে।