গাছের ডালে ঝুলছে লিচুর গুটি।

ফুটন্ত মুকুল থেকে বের হয়েছে লিচুর গুটি। যা গাছের ডালের শাখায় ঝুলছে থোকায় থোকায়। থোকায় থোকায় থাকা লিচুর ভারে ধীরে ধীরে হেলছে গাছের ডাল-পালা। হেলে পড়া গাছের ডালপালা গুলো বাচাঁতে বাঁশের তৈরি করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাষীরা। দিনাজপুরের বাগান গুলোর প্রতিটি গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় দুলছে লিচু চাষীর স্বপ্ন। বৈশাখের প্রায় মাঝামাঝি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়-শিলাবৃষ্টি হলেও এর তেমন কোন প্রভাব পড়েনি দিনাজপুরে।

যে কারনে স্বস্তিতে রয়েছে লিচু চাষী ও বাগানিরা। বর্তমানে লিচু চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন লিচুর গুটি আর গাছের পরিচর্যায়। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের খাঁড়ায় না পড়লে এবার লিচুর ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন লিচু চাষি, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

আগামী দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে বাজারে উঠবে দিনাজপুরে রসালো মধু ফল লিচু।

দিনাজপুরের লিচু টসটসে রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় এর সুনাম ছড়িয়ে আছে দেশ-বিদেশে। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে বেদানা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-থ্রি আর দেশি প্রজাতির লিচু অন্যতম। দিনাজপুরের লিচু স্থানীয়দের চাহিদা মিটানোর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি হয়। গত মৌসুম থেকে এখানকার উৎপাদিত লিচু বানিজ্যিকভাবে দেশের বাইরে পাঠানো হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

দিনাজপুর সদর উপজেলার শিকদারগঞ্জ এলাকার লিচু চাষী তৌহিদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে জানান, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ও রোগ বালাই থেকে গাছ ও ফলকে মুক্ত রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে বালাইনাশক। ভালো ফলনের লক্ষে লিচু গাছের আগাছা মুক্ত করার কাজও চলছে। গত কয়েক মৌসুমের ন্যায় এবারও বৈশাখ মাস জুড়ে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় গাছের গোড়ায় সেচের পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে। যে পরিমানের গুটি দেখা দিয়েছে তাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ফলনে রেকর্ড হবে।

মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী আরিফুল আজকের পত্রিকাকে জানান, লিচু পরিপক্ক হয়ে খাওয়ার উপযোগী হতে আরোও দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগবে। মুকুল থেকে ফল এসেছে। গাছের গুটি লিচু ধরে রাখতে পরিচর্যা কাজ অব্যাহত রয়েছে। প্রতি বছর ন্যায় এবারও দিনাজপুরের লিচু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হবে। দাম ভালো পাওয়া গেলে দেশের বাহিরেও পাঠানো হবে। ব্যবসায়ীদের ভাগ্য নির্ভর করছে প্রকৃতির উপর। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ফলন ও বাণিজ্যি হবে ভালো।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ৭’শ হেক্টরের বেশী জমিতে লিচু চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান গাছের প্রতিটি ডালের শাখায় থোকায় থোকায় ঝুলছে গুটি লিচু। গাছে ঝুলে থাকা এসকল গুটি লিচু টিকিয়ে রাখতে পরিচর্যা কাজে ব্যস্ত চাষীদের সার্বক্ষনিক সঠিক পরামর্শ ও সকল সহযোগীতা করছে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। প্রতি মৌসুমের এই সময় প্রচন্ড তাপ ও খরায় লিচুর মুকুল ও গুটি জ্বলে যায়। এখন পর্যন্ত কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়নি। মুকুল দেখা দেওয়ার আগ থেকে শুরু করে লিচু উৎপাদন পর্যন্ত চাষীদের পরিচর্যাসহ সকল সহযোগীতা করে যাবে কৃষি বিভাগ।

আজকের পত্রিকা/দিনাজপুর/মাহিদুল রিপন/এমএআরএস