ঠাকুর মান্দায় রাম নবমী উৎসবে হাজারো ভক্তের ঢল।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঠাকুর মান্দার শ্রী শ্রী রঘুনাথ জিউ মন্দির প্রাঙ্গণে রামনবমী উৎসবে ঢল নেমেছে হাজারো ভক্তের।

১৪ এপ্রিল রবিবার সকাল থেকেই কীর্তন, প্রসাদ বিতরণ, ভক্তদের পূজো অর্চনা, ভোগ নিবেদন এবং মানত দেওয়ার মধ্যে দিয়ে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। এ উপলক্ষে মন্দির এলাকার বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে বসেছিল গ্রামীণ মেলা।

প্রতি বছর চৈত্র-বৈশাখ মাসের নবমী তিথিতে ভগবান রাম চন্দ্রের জন্মাষ্ঠমী উপলক্ষে এই মন্দির প্রাঙ্গণে ৯ দিনব্যাপী ধর্মীয় উৎসব ও মেলা বসে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এটি অন্যতম তীর্থস্থান হিসেবেও ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। এই উৎসবে বিশেষ করে রামনবমী উৎসবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার ভক্তবৃন্দ ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও ভক্তরা আসেন ঠাকুর দর্শনে ও তাঁদের মানত দিতে।

হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভক্তের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দিরের চারপাশ। বাস, মাইক্রোবাস, ভ্যান, চার্জার ও ভটভটিতে চড়ে ভক্তরা আসেন এই রঘুনাথ মন্দিরে।

ঠাকুর মান্দার বিলে পানি না থাকায় রাম নবমী তিথির মধ্যে ভক্তরা মন্দির সংলগ্ন পুকুরে ¯œান করে ভেজা কাপড়ে আবার কেউ কেউ পদ্মপাতা সংগ্রহ করে তাতে ভোগের মিষ্টান্ন নিয়ে দীর্ঘ লাইন ধরে ঠাকুরের চরনে নিবেদন করে থাকেন। অন্ধ তথা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের মন্দিরের সামনে অন্ধশালায় শুইয়ে রাখা হয়, ঠাকুরের কৃপায় তাদের চোখের দৃষ্টি ফিরে আসবে সেই আশায়। এছাড়া যে সব গৃহবধু মা হতে চেয়েও পারছেন না, তাঁদের অনেকে পুকুরে ¯œান করে মাটিতে মন্দিরের সামনে আঁচল পেতে প্রার্থনা করতে থাকেন। ভক্তদের ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে মন্দির কমিটির আয়োজনে মন্দিরের পার্শ্ববতী মাঠে কীর্তনের আসরের আয়োজন করা হয়।

মন্দির কমিটির সম্পাদক সত্যেন্দ্রনাথ প্রামানিক বলেন,‘শ্রী রাম চন্দ্রের জন্মোৎসব উপলক্ষে প্রতি বছর চৈত্র-বৈশাখ মাসের নবমী তিথিতে নানা ধর্মীয় আঙ্গিকে উৎসব পালিত হয়। এই বছরও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় মধ্য দিয়ে রাম চন্দ্রের জন্মোৎসব পালিত হচ্ছে। এটি সনাতন র্ধর্মাবলম্বী মানুষদের অন্যতম তীর্থ স্থান।

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ