কালভার্টের নিচে পড়ে আছে বগি।

মৌলভিবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল ট্রেন দূর্ঘটনাস্থল এখনো ঝুঁকিপুর্ণ বলে প্রমাণ করল রেলকর্তৃপক্ষ। পাহাড়ী ঢলে বড় ছড়ার রেল কালর্ভাটের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় এক ঘন্টা আটকা পড়ে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস কুলাউড়া বরমচাল স্টেশনে এবং সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস আটকা পড়ে মাইজগাও ষ্টেশনে।

নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে সিলেট থেকে ছেড়ে যায় পাহাড়িকা। ট্রেনটি দূর্ঘটনা তদন্ত কমিটি ঘটন হলেও প্রতিবেদন দাখিলে চলছে গড়িমসি। আতংক কাটছে না রেলে ভ্রমণকারী যাত্রীদের।

মন্ত্রীরা এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলেও দাবি যাত্রি সাধারণের। তবে রেলওয়ে এর ডিআরএম আহসান জাবির এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন দূর্ঘটনা প্রতিবেদন দাখিল করতে লাগবে আরও কদিন।

খবর পেয়ে কুলাউড়া রেল স্টেশন থেকে উর্দ্ধতন উপসহকারী প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তারা এসে লাইন পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন।

শুক্রবার সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি দুপুর ২টা ৫০মিনিট থেকে বরমচাল স্টেশনে আটকে থাকার পর এক ঘন্টা সময় পরে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিকেল সোয়া চারটার পর গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। এবং নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট পর মাইজগাও থেকে সিলেটের উদ্ধ্যেশ্যে ছেড়ে যায় পারাবত ট্রেন।

টানা বৃষ্টিতে কুলাউড়ার বরমচাল এলাকায় সদ্য ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা কবলিত স্থানের সেই আলোচিত বড়ছড়া ব্রিজের নিচে পাহাড়ি ঢলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সৃষ্টি হয়ায় এবং শ্রীমঙ্গল, শমশেরনগর এলাকায় রেললাইনে পানি উঠায় দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয় স্টেশন মাস্টার। এতে মাঝপথেই আটকা পড়ে ট্রেনের কয়েকশ যাত্রী।

টানা বৃষ্টিতে প্রবলস্রোতে বড়ছড়া ব্রিজের নিচ থেকে মাটি সরে যেতে পারে এমন ধারণা বরমচাল স্টেশন মাস্টার শফিকুল ইসলামের। এছাড়াও শ্রীমঙ্গল, শমশেরনগর এলাকায় রেললাইনে পানি উঠেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় বড়ছড়া ব্রিজ ও রেলপথ দিয়ে ট্রেন চলতে গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি তারা।

তিনি বলেন, ছড়ার পানি বাড়ার কারণে এলাকাবাসী স্টেশন মাস্টারকে এ মুহূর্তে ট্রেন না ছাড়তে অনুরোধ করলে ট্রেনটি এক ঘন্টা পর্যন্ত স্টেশনে আটকে রাখা হয়। পরে রেলের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঝুঁকিমুক্ত বলার পর ট্রেনটি ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি স্টেশন মাস্টার শফিকুল ইসলাম ঢাকা কন্ট্রোল রুমকে জানিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, কন্ট্রোল রুমে জানিয়েছে পিআইডব্লিউ না বলা পর্যন্ত ট্রেন ছাড়া যাবে না। এদিকে, দুপুর সাড়ে তিনটা পর্যন্ত পিআইডব্লিউ এর কাউকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান স্টেশন মাস্টার।

কুলাউড়ার স্টেশন মাস্টার মাজহারুল ইসলাম কুলাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশের ওসি আব্দুল মালেক বলেন, বেশ কিছু স্থানে রেল লাইনের উপর পানি উঠে গেছে। তাছাড়া বরমচাল সম্প্রতি সময়ে দূর্ঘটনাস্থল বড়ছড়া ব্রিজের টেকসইয়ে সন্দেহ হচ্ছে। তাই ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ট্রেনদুটি ছেড়ে যায়।