কাঁটা ছবির একটি দৃশ্য। ছবি : কাঁটার ফেসবুক পেজে থেকে নেওয়া

২০১২-১৩ অর্থবছরের সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘কাঁটা’র শুটিং শেষ হলো অবশেষে। এমনটিই জানিয়েছেন ছবিটির নির্মাতা কবি টোকন ঠাকুর।

এ বিষয়ে ছবিটির ফেসবুক পেজে নির্মাতা লিখেন ,‘কাঁটা নির্মাণের প্রথম পর্ব শুটিং, ১০০ ভাগ শেষ। প্রযোজনায় শুটিংয়েই প্রধান ব্যয় হয়ে থাকে। কাঁটাও কোটির অঙ্ক ছাড়িয়েছে। যতটা শহীদুল জহিরের গল্পের জন্যে, আমার জন্যে বেশি। কারণ বাইশ পৃষ্ঠার গল্প, একশ ষাট পৃষ্ঠার চিত্রনাট্য। দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট প্রডাকশন, সে তো আগেই শুরু হয়েছে। ডাবিং, সাউন্ড, মিউজিক, গান, অ্যানিমেশন…. তারপরেই ছবিটি মুখোমুখি হবে আপনার।
পিরিওডিক্যাল একটি ছবির জন্য সব স্তরেই সবার ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, মনোযোগ ও ভালোবাসা লাগেই। কাঁটাও সেটা দাবি করে।
কাঁটা শ্যুটিং পর্বে কতরকম চড়াই উতরাই আমরা পার করে এসেছি। কত ভঙ্গুর মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছি আমরা। প্রায় তিনশ জনের একটি দল নিয়ে বছর দুয়েক এর জার্নি তো কম কথা নয়! শীতের সর্ষেফুলের মাঠে একটুখানি কাজ ছিল, তার জন্য শীতের অপেক্ষা ছিল আমাদের, সেটি গতকাল নরসিংদীতে গ্রহণ এবং ১৯৭১ সালের চরিত্র সুবোধ-স্বপ্নার বিবাহ দৃশ্য গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাঁটা’র শুটিং পর্ব শেষ।
গতকালকের আগের রাতে সুবোধ চরিত্রের অভিনেতা শ্রীমন্ত বসুর বাবা ঢাকায় পরলোকগমন করেন। কিন্তু গতকাল শুটিং ছিল নির্ধারিত । তাই বাবার অন্ত্যেষ্টি ২৪ ঘণ্টা পিছিয়ে দিয়ে লাশ হিমাগারে রেখে শ্রীমন্ত বসু কাঁটা ইউনিটের সঙ্গে ভোর পাঁচটা থেকে দিনরাত কাজ শেষে রাত চারটা পর্যন্ত নরসিংদীতে থেকে মাগুরার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। শ্রীমন্ত বসু ও তার পরিবারের কাঁটা’র জন্য সত্যিই এটা বড় অবদান, বড় ত্যাগ। বাবার লাশ হিমাগারে রেখে পুত্রের জন্য বিবাহ দৃশ্যে অভিনয় করতে বসা।এ বড় কঠিন। সেই কঠিন কাজটি করেছে একাত্তর সালের সুবোধচন্দ্র দাস, কাঁটা ছবিতে যার নিজেরও নির্মম মৃত্যু ঘটেছে বউকে নিয়ে। শুধু শ্রীমন্ত বসু কেন, কাঁটা টিমের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকেই ভালোবেসে কাঁটা’য় জড়িয়ে আছে। ক্যামেরার সামনে, ক্যামেরার পেছনে, কয়েকজন পরোক্ষভাবে একটু দূরে দাঁড়িয়ে কী প্রবল সমর্থন ও ভালোবাসা, সময়, পরিশ্রম, অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিয়ে গেলেন বলেই কাঁটা হয়ে ওঠার দিকে ধাবমান।

কাঁটার শেষ দিনের শুটিং

কাঁটাকে ঘিরে অনেক মানুুষের ভালোবাসা যেমন আছে তেমনই অনেক প্রশ্নও আছে। কাঁটা প্রসঙ্গে বেশিরভাগ মানুষের একটি কমন জিজ্ঞাসা হচ্ছে ‘এত দেরি হচ্ছে কেন?’, ‘কাঁটা কবে রিলিজ হবে?’ কাঁটা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র। একটি সিনেমা তৈরি করতে কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয় সেটা মোটামুটি সবারই জানা। যারা সিনেমা নির্মাণের সঙ্গে জড়িত এবং অনুদানের সিনেমা বানিয়েছেন কিংবা বানাচ্ছেন, তারা জানেন অনুদানের নির্ধারিত অর্থে পিরিওডিক্যাল সিনেমা বানানো কতখানি সম্ভব! অনুদান পাওয়ার পর শ্যুটিংয়ের প্রয়োজনীয় অর্থ যোগান দিতে গিয়ে আমার তিন চার বছর পার করতে হয়েছে বৈকি। ছবিটি বাজারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দিলে অনেক আগেই কাঁটা মুক্তি পেয়ে যেত। কিন্তু, পিরিওডিক্যাল ছবি কাঁটা পারফেক্টলি বানাতে চেয়ে বাজারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করার মানসিকতা আমার হয়নি। কাঁটা ছবির আনুষ্ঠানিক কাজ মূলত শুরু হয়েছে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কাঁটা তিন সময়ের ছবি, ১৯৮৯-৯০, ১৯৭১ ও ১৯৬৪ সালের ছবি। এই তিনটি সময় যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য প্রয়োজনীয় লোকেশন, সেট, প্রপস্, কস্টিউম যোগাড় করে কাজটি সম্পন্ন করতে এই সময়টুকুর দরকার ছিল। এ ছাড়া তিনশ জন চরিত্রের মধ্যে প্রায় পুরোটাই নতুন মানুষ নিয়ে কাজ করায় চরিত্র নির্মাণে কিছুটা সময় ব্যয় করতে হয়েছে।

আল্টিমেটলি কাঁটা নির্মাণে সময় ব্যয় হলো ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি সময়টুকু। আর দুতিন মাসেই পোস্টের কাজ সম্পন্ন করে কাঁটা আপনার মুখোমুখি হবে কিংবা আপনাকে মুখোমুখি হতে হবে কাঁটা’র।
সবাইকে অভিনন্দন! অভিনন্দন কাঁটা টিমকে , যারা না থাকলে কাঁটা’র শুটিং হয়ে উঠত না।’

২০১৪ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে পুরান ঢাকা, পানামনগরী, বিরুলিয়া, ধামরাই এবং কুষ্টিয়ার একটি গ্রামে ছবিটির চিত্রায়ন শুরু হয়েছিল। শেষ হয় নরসিংদীতে।

ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, অনিমেশ আইচ, ত্রিপ্তি রানী, শ্রীমন্ত বসু, চিন্ময়ী গুপ্ত, সোহেল তৌফিক, তিস্তা নদী, এস এম মহসিন, পরেশ আচার্য, মাওলানা মোসলেম উদ্দিন, মৌমিতা, কাজি ফয়সল, তুরা মথুরা, শিখা কর্মকার, শিবু কুমার শীল, মিনহাজুর রহমান, কামরুজ্জামান তপু, রুম্মান শাহসহ ২০০ জন পাত্র পাত্রী।

আসছে বৈশাখে ছবিটি মুক্তি দিতে চান নির্মাতা।