শিক্ষার্থীরা মাদরাসার খালি ও পরিত্যক্ত স্থানে বিভিন্ন জাত, রং ও ঘ্রাণের ফুলের চারা লাগাতে ব্যস্ত। ছবি : প্রতিনিধি

শেরপুরের নকলায় টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুলের বাগান করেছে এক মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। ১১ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে উপজেলার বানেশ্বরদী ইউপির বানেশ্বরদী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, ওই মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মাদরাসার খালি ও পরিত্যক্ত স্থানে বিভিন্ন জাত, রং ও ঘ্রাণের ফুলের চারা লাগাতে ব্যস্ত।

তাদের রোপণ করা ফুলের চারাগুলোর মধ্যে গাদা, চন্দ্র মল্লিকা, জবা, গোলাপ, রজনী গন্ধা, দোপাটী, চামেলী, নয়নতারা ও গন্ধরাজ উল্লেখযোগ্য।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম, শান্ত বৃষ্টি, বিপ্লব, হ্যাপী, আসিফ, তারেক, হৃদয়, সজিবুর, জাকিয়া, সূচনা, রাজিফুল, ইভা, বিথী ও কাজল জানায়, তারা প্রত্যেকে প্রতিদিনের টিফিনের টাকা থেকে এক টাকা করে বাঁচিয়ে মাসে ২০ থেকে ২৫ টাকা দিয়ে ২/৩ টি ফুলের চারা কিনতে পারেন।

তাদের মতে, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই মাসে অন্তত ৫০০ টাকার গাছ রোপণ করতে পারবে। এ হিসাব মতে মাদরাসার সব শিক্ষার্থীরা টিফিনের টাকা থেকে দৈনিক এক টাকা রেখে দিলে কিছু দিনের মধ্যেই তারা তাদের মাদরাসা প্রাঙ্গণকে বিভিন্ন ফুল-ফলের বাগানে সাজিয়ে তুলতে পারবে, এমনটাই আশা করছে উদার চিন্তার শিক্ষার্থীরা।

অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ হলে তারা জানায়, তারা আপাতত নিজের প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ফুল ফলে লাল সবুজে সাজানোর পর আশেপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদরাসা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন গাছের চাড়া রোপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

শিক্ষার্থীদের এমন কাজে উদ্বুদ্ধ করেছেন ওই মাদরাসার সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, সহ-সুপার মো. আখতারুজ্জামান, সহকারী শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেনসহ অন্যান্য শিক্ষক।

শিক্ষকরা জানান, এই বয়সের শিক্ষার্থীদের এমন উদার ও বৃহৎ চিন্তার কথা শুনে তারা সত্যিই অবাক হয়েছেন। তারা বলেন, আমরা এতদিন যাবত শিক্ষকতা করছি, অথচ এমন মহৎ চিন্তা করিনি। আমাদের শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগ নিয়ে এবং বাস্তবায়ন করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বলেও তারা জানান।

রফিক মজিদ/শেরপুর