টাঙ্গাইলে বস্তি উচ্ছেদে মেয়রের বাধা!

টাঙ্গাইল শহরের হাউজিং সোসাইটি ও লৌহজং নদীর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ বস্তিতে দীর্ঘদিন পর বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলেও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়রের বাধায় তা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বস্তিবাসী তাদের পূর্নবাসন না করা পর্যন্ত সরে যেতে চাইছেনা।

অপরদিকে, হাউজিং সোসাইটিসহ স্থানীয় লোকজন জেলা প্রশাসনের বস্তি উচ্ছেদ কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন। ফলে বস্তি এলাকায় থমথমে অবস্থা বিড়াজ করছে।

জানাগেছে, টাঙ্গাইলের হাউজিং সোসাইটির সামনে বস্তি গড়ে ওঠায় এর সৌন্দর্য পাচ্ছেনা। চুরি-ডাকাতিসহ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হাউজিং এস্টেটের মালিকরা।

হাউজিং এস্টেটের সামনের বস্তি ও শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া লৌহজং নদীর দুই পাড়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বস্তি একাধিকবার ভেঙ্গে ফেলার কার্যক্রম হাতে নিলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে ওই বস্তি উচ্ছেদ করতে পারেনি জেলা প্রশাসন। ফলে দখল-দূষনের শিকার হয়ে ঐতিহ্যবাহী লৌহজং নদীর স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিগত ২০১৬ সালে সাবেক জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন নদী উদ্ধারকে কেন্দ্র করে বস্তি উচ্ছেদ করার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

বৃহস্পতিবার হাউজিং সোসাইটি, গণপূর্ত বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে বস্তি উদ্ধারে যায়। বস্তির কিছু অংশ ভেঙ্গে ফেলার পর টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন সেখানে উপস্থিত হয়ে বস্তি ভাঙ্গতে নিষেধ করেন।

এরপরই উচ্ছেদ অভিযান স্থবির হয়ে যায়। তবে হাউজিংয়ের ভেতরে যৌথ অভিযান চালানো হয়।
পরে মেয়র জামিলুর রহমান মিরনের নির্দেশে হাউজিং এলাকার বস্তিবাসীরা শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) স্বেচ্ছায় চলে যেতে শুরু করেছে।

বস্তি—বাসী হালিমা খাতুন, রাশিদা, মালেক মিয়া সহ অনেকেই জানান, তাদের কোন জায়গা-জমি নাই। তাই তারা বস্তিতে থেকে অন্যের বাসায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

উচ্ছেদ করলে তারা কোথায় যাবেন- এমন প্রশ্ন করেন। তারা পূর্নবাসন করার দাবি জানান।

হাউজিং সোসাইটির সদস্যরা বস্তি উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করায় জেলা প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, বস্তি উচ্ছেদ না হলে তাদের নিরাপত্তাসহ লৌহজং নদীর পানিপ্রবাহের স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবেনা।

টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন জানান, পরিকল্পনা ছাড়া বস্তি উচ্ছেদ করতে যাওয়া সঠিক হয়নি।

বস্তিবাসীরা নিরীহ মানুষ, তাদের পূর্নবাসন করে বস্তি উচ্ছেদ করা প্রয়োজন। তিনি বস্তিবাসীদের সাথে কথা বলেছেন, যাদের যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে তারা বস্তি ছেড়ে দেবে।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রোকনুজজামান জানান, লৌহজং নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা বস্তিসহ আশপাশের অবৈধ স্থাপনা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।

-মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল
টাঙ্গাইল।