পুলিশের ধাওয়া খেয়ে একজনের মৃত্যুর অভিযোগ। সড়ক অবরোধ। ছবি : সংগৃহীত

টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরে জুয়া খেলার সময় পুলিশি অভিযানে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করছে। তবে পুলিশি নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

এ ঘটনায় পুলিশ ওই জুয়ার আসর থেকে চারজনকে আটক করেছে। এসআই তাহেরসহ ৮ পুলিশকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত কাজে যাতে প্রভাবিত করতে না পারে তাই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল হাকিম (৫০)। তিনি ঝাওয়াইল গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ও পেশায় মাংস ব্যবসায়ী।

এদিকে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসী রাতে গোপালপুর থানা ঘেরাও করে এলাকাবাসী। এ সময় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মধুপুর-গোপালপুর সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া গোপালপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের জানান, সেখান থেকে সুরুজ্জামান, রিপন রায়, হারাধন চন্দ্র বিশ্বাস ও গৌরাঙ্গ রায় নামক চারজনকে আটক করা হয়েছে। তারা অভিযান শেষে থানায় ফিরে আসার পর আব্দুল হাকিম নামক একজনের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছেন।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ একটি মাইক্রোবাস নিয়ে সাদা পোশাকে সেখানে গিয়ে তাদের সবাইকে ধরে ফেলে। পরে প্রত্যেককে চড়-থাপ্পড় মারে। এতে আব্দুল হাকিম অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরে পুলিশ তাকে ফেলে চারজনকে নিয়ে চলে যায়।

ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুল হাকিমকে মাঠে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আরও কয়েকজনের সহায়তায় তিনি হাকিমকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আব্দুল হাকিমের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছার পর মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ইফতারের পর কয়েকশ মানুষ গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং হাকিমের মৃত্যুর জন্য পুলিশদের দায়ী করে শাস্তির দাবি জানায়।

এ প্রসঙ্গে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন জানান, ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ঝাওয়াইল টেকটিক্যাল কলেজ মাঠে কিছু লোক টাকার বিনিময়ে তাস খেলছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে চারজনকে আটক করা হয়। দু’জন পালিয়ে যায়। আটকদের থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে খবর পাওয়া যায় দৌড়ে পালানো একজন মারা গেছেন।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস