জোড়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসান

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজে ও ইউপি সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে না দিয়ে ছেলেকে দিয়ে সকল অপকর্ম চালাচ্ছেন তিনি। তার ইউনিয়নে টাকা ছাড়া কোন সেবাই পায় না সাধারন মানুষজন। বিভিন্ন সময় সরকার দলীয় প্রভাব দেখিয়ে তিনি পার পেয়ে যান বলেও অভিযোগ করেছেন সাধারণ মানুষ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তবে হাসান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

জোড়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম (৬০), ওয়ার্ড আওয়ামসী লীগ সভাপতি রমেশ রায় ও আবুল হোসেন জানান, পাঁচ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিন বার জোড়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত হয় আবুল হাসান। তিনি তদবীর করে গত ২০১৬ সালের ৫ মে প্রথমবার দলীয় প্রতিকে নির্বাচনে নৌকা পেয়েই চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন। এরপর হতে এ ইউনিয়নে শুরু হয় নতুন নিয়ম, টাকা ছাড়া মেলে না কোন সেবা।

তারা আরো জানান, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, দূর্যোগ সহনশীল ঘর প্রদান, মাতৃত্বকালীণ ভাতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের অধীনে কোন প্রকল্পে চাকুরীসহ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরও নিতে হয় টাকার বিনিময়ে। টাকা নিয়ে কাজ না হলে আবার অর্ধেক টাকা ফেরতও দেয়। সাধারণ মানুষদের সাথে হাসান চেয়ারম্যানের খারাপ আচরণেরও অভিযোগ করে তারা, আওয়ামী লীগ হতে তার বহিস্কারও তারা দাবী করেন। তারা চেয়ারম্যানের ছেলে মমিনুলেরও বিরুদ্ধে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের নিকট হতে টাকা নেওয়া অভিযোগ করেন।

জোড়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়।

ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়ার আমিনুল ইসলামের স্ত্রী মঞ্জিলা বেগম (৫৯) বলেন, ১০ হাজার টাকা চুক্তি করে হাসান চেয়ারম্যান দূর্যোগ সহনশীল ঘর দেওয়ার কথা বলে আমার কাছে পাঁচ হাজার টাকা নেয়। এখন বাকি টাকাও নেয় না ঘরও দেয় না।

মাস্টার পাড়ার মাহমুদের স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫৫) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে নাই। আমি আর আমার বৃদ্ধ অসুস্থ স্বামী কোন সরকারী সহায়তা পাই না। চেয়ারম্যানের কাছে কোন সাহায্য চাইলে তিনি রাস্তার মাটি কাটার কাজের জন্য ১০ হাজার টাকা আমার কাছ থেকে নেয়। দুই বছর হলো কাজ আর পাই না। কিছুদিন আগে ছয় হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে। বাকি চার হাজার টাকা এখনো ফেরত দেয় নাই।

তেতলীতলা এলাকার অধী চন্দ্রের স্ত্রী রেনা বালা বলেন, ১৫ হাজার টাকা হলে মাটি কাটার কাজ দেওয়া হবে বলে হাসান চেয়ারম্যান আমাকে জানালে, আমি সুদে টাকা ধার নিয়ে তাকে দেই। এরপর আমাকে রাস্তার মাটি কাটার কাজ দেয়।

ইউপি সদস্য জাহিনুল ইসলাম জানান, সমন্বয় সভায় ফাঁকা রেজুলেশন খাতায় ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে ইচ্ছেমতো বিষয় উল্লেখ করে চেয়ারম্যানের ছেলে মমিনুল ইসলাম। আর মমিনুলেই ইউনিয়নের সকল কাজ পরিচালনা করে থাকে। আমরা ইউপি সদস্যরা কোন কিছুই করতে পারি না চেয়ারম্যান ও তার ছেলের সিন্ধান্তের বাইরে।

চেয়ারম্যােেনর ছেলে মমিনুল ইসলামকে ইউনিয়নের সকল কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি শুধু ঘামতে থাকেন। আর বলেন, আমিতো কিছু না।

জোড়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসান অফিস দুই হতে চার হাজার টাকা নিয়েছে জানিয়ে বলেন, আমি ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামা লীগ করে জীবন শেষ করে দিলাম। আপনাদের যা করার আছে সংবাদ করেন। আমি পরে দেখবো।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ জানান, হাসান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আমার কাছেও অনেকে নিয়ে এসেছে। আমি কিছু বিষয় সমাধান করে দিয়েছি। তারপরও তার বিরুদ্ধে প্রায়ই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সাধারন মানুষ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আসে।

এ ব্যপারে জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, বিষয়টি তদন্ত পর্যায়ে আছে। তদন্তে প্রমানীত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন/নীলফামারী