রৌমারী উপজেলার ফলুয়ারচর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ফলুয়ারচর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাটি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৪২বছর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলো ছড়ালেও এখনও মাদরাসাটি এমপিও হয়নি। শিক্ষার বিনিময়ে শিক্ষক-কর্মচারী পাননি কোন পারিশ্রমিক। অন্যদিকে কোন ভবন না থাকায় অসমাপ্ত একটি ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরে চলে নিয়মিত পাঠদান। ফলে একদিকে শিক্ষকরা যেমন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠ গ্রহণ করছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৭ সালে উপজেলার ফুলয়ারচর এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াতে প্রতিষ্ঠিত হয় ফুলয়ারচর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা। শিক্ষকদের সহায়তায় মাদরাসায় একটি টিনের ঘর তৈরি করা হয়। বর্তমানের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী রয়েছে ১শ ৬৪জন। শিক্ষক ৫জন ও ১জন কর্মচারী রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানে আছে দিগন্ত জোড়া মাঠ ও খোলামেলা পরিবেশ। প্রধান শিক্ষকের দক্ষতা ও নিষ্ঠাবান শিক্ষকের কারণে ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় কয়েক বার ভালো ফলাফল করেছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এরকম সব ধরণের শর্ত পূরণ করা স্বত্তেও প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৪২ বছর পরও মাদরাসাটি এমপিওভূক্ত হয়নি। ওই মাদরাসারটির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বীর মুক্তিযোদ্ধা ২০১৮ সালে বিনাবেতনে ও পেনশনবিহীন বয়সের ভারে অবসরে যান। এছাড়াও আরেক সহকারি শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বয়সের ভারে তিনি মারা গেছেন।

শিক্ষক ও কর্মচারীরা জানান, সংসারের হাল ধরতে এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন শিক্ষক-কর্মচারী। ভেবেছিলেন একদিন সুখের মুখ দেখবেন। কিন্তু চাকরি জীবনের বেশির ভাগ সময় অতিবাহিত হলেও সেই সুখের দেখা মেলেনি। একদিকে শিক্ষার্থীদের বেতন নেই অন্যদিকে এমপিওভূক্ত না হওয়ায় সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা না পেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাছাড়া মাদরাসায় বর্ষার সময় একটু বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি যায়। বেশি বৃষ্টি হলে পাঠদান চালু রাখা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া ঘরগুলো মজবুত না হওয়ায় ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

মাদরাসাটির পঞ্চম শ্রেনীর রিফাত, রাসেল, তানিয়াসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে, বৃষ্টির সময় বেশি সমস্যা হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভিতরে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। তাছাড়া ঝড়ের সময় ভয়ে থাকতে হয়।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, অসমাপ্ত টিনের ঘরে ঝুঁকি নিয়ে মাদরাসার পাঠদান চালু রেখেছি। শিক্ষকদের কিছু সহায়তায় পাঠদানের জন্য ঘর নির্মান করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে টিনের চালা, বেড়া, জানালা অকেজো হয়ে পড়েছে। টাকার অভাবে আজও ঘরটি মেরামত করতে পারেনি। চালার টিনগুলো ফুটো হয়ে গেছে। মাদরাসাটি অবহেলিত থাকায় শিক্ষক ও এলাকাবাসী হতাশা প্রকাশ করেছেন। এই মাদরাসার উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেন মাদরাসার প্রধান শিক্ষক।

অবসরে যাওয়া সাবেক প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বীর মুক্তিযোদ্ধা তিনি জানালেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সভাপতি দায়িত্ব থেকে নিজ উদ্যোগে ও বিভিন্ন দপ্তরে দিনের পর দিন ঘুরেও মাদরাসাটির কোন উন্নতি করতে পারিনি। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির এমপিওই এর চূড়ান্ত সমাধান। এমপিও হলে প্রতিষ্ঠানটি বেঁচে থাকবে। এই এলাকার গরীব ছাত্রছাত্রীরা পড়াশুনা করার সুযোগ পাবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান বলেন, ‘মাদরাসার বিষয়টি আমার কিছুই জানা নেই। তবে তিনি আরো জানান, ওই মাদরাসাটির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হবে।

-মাসুদ পারভেজ রুবেল